কিশোরগঞ্জে পলিথিন কারখানায় নেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ হুমকির মুখে
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি | ১৮ জুন ২০২৬ কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের ঘোষেরকান্দি গ্রামে গড়ে ওঠা "ওমর উসমান প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং" নামের পলিথিন উৎপাদন কারখানায় নেই কোনো কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক উৎপাদন করলেও বর্জ্য নিষ্কাশনের কোনো পরিকল্পনা না থাকায় মাটি ও পানিদূষণের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সরেজমিন যা দেখা গেছে: সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৩ সালে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে মোঃ দুলাল আহমাদ নামে এক শিল্পপতি কারখানাটি চালু করেন। কারখানার সাইনবোর্ডে ঠিকানা দেওয়া আছে - ঘোষেরকান্দি, যশোদল, কিশোরগঞ্জ। প্রোপ্রাইটর: দুলাল আহমাদ। মোবাইল: ০১৭১-২৩৭৯৪, ০১৭৮-৩০০৯৩৮। কারখানায় পলিথিন উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের কাজে অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সের প্রায় ২০ জন শ্রমিক কাজ করছেন বলে জানা গেছে। কারখানার ইনচার্জ আতিকুল ইসলাম খোকন এই প্রতিনিধিকে বলেন, "শ্রমিকরা ১২ ঘণ্টা ডিউটি করেন এবং দুই শিফটে দিন-রাত উৎপাদন চলে।
প্রতিদিন স্থানীয় বাজারে ৪ থেকে ৫ শত কেজি বিভিন্ন ধরনের পলিথিন সরবরাহ করা হয়।" কারখানা ঘুরে দেখা যায়, উৎপাদনজনিত প্লাস্টিক বর্জ্য ও উচ্ছিষ্ট কারখানার পাশে খোলা জায়গায় স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৫ অনুযায়ী যেকোনো শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার প্ল্যান-এস্টিমেট ও পরিবেশ ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই কারখানায় তেমন কোনো ব্যবস্থা দৃশ্যমান হয়নি। কারখানার দেয়ালে ৫নং যশোদল ইউনিয়ন পরিষদ ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কিছু সনদপত্র ঝুলানো থাকলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের ইটিপি/বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ছাড়পত্র চোখে পড়েনি। পরিবেশ অধিদপ্তর যা বলছে: এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর কিশোরগঞ্জের সহকারী পরিচালক .আব্দুল মমিন বলেন, "পরিবেশ ছাড়পত্র ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়া কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিচালনা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। অভিযোগ পেলে সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক নিষিদ্ধ করেছে। এরপরও পলিথিন উৎপাদন হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" স্থানীয়দের দাবি: নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, কারখানার বর্জ্যে আশপাশের জমি ও পুকুরের পানি নষ্ট হচ্ছে। অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়েরা এখানে কাজ করছে যা শ্রম আইনের লঙ্ঘন। তারা দ্রুত এই কারখানার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে পরিবেশ রক্ষা ও শিশুশ্রম বন্ধের দাবি জানান।
What's Your Reaction?