প্রশংসিত সাহিদুর রহমান টেপার 'জিওপলিটিক্যাল চেসবোর্ড'
বাংলাদেশের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও জাতীয় পার্টির কো-চেয়ার সাহিদুর রহমান টেপা তার দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের আলোকে "জিওপলিটিক্যাল চেসবোর্ড” -শিরোনামে একটি গুরুত্বপূর্ণ বই রচনা করেছেন। ইতোমধ্যেই বইটি দেশী-বিদেশী পাঠকদের মাঝে ব্যাপক সমাদৃত হয়েছে।
সম্প্রতি ভারতের জাতীয় কংগ্রেস-এর সভাপতি শ্রীমতি সোনিয়া গান্ধী ''জিওপলেটিক্যাল চেসবোর্ড"' শীর্ষক বইটি প্রকাশের জন্য সাহিদুর রহমান টেপা-কে অভিনন্দন জানিয়ে তার নিজস্ব প্যাডে প্রশংসা সম্বলিত শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন। সোনিয়া গান্ধী ব্যক্তিগতভাবে বইটির সফলতা কামনা করেছেন। সিপিপি'র অফিসিয়াল মেইল হতে সোনিয়া গান্ধী স্বাক্ষরিত চিঠিটি পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূতের পক্ষ হতেও শুভেচ্ছা বার্তা ও"'জিওপলেটিক্যাল চেসবোর্ড" বইটির প্রশংসাসহ একাধিক দেশী-বিদেশী পাঠক হতে প্রশংসা বার্তা পাচ্ছেন বইটির লেখক সাহিদুর রহমান টেপা।
"জিওপলেটিক্যাল চেসবোর্ড"- বইটি লেখার পেছনের প্রেক্ষাপট জানতে চাওয়া হলে বইটির লেখক সাহিদুর রহমান টেপা বলেন, "বিশ্ব রাজনীতির দ্রুত পরিবর্তনশীল বাস্তবতা, ক্ষমতার ভারসাম্য ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোর পারস্পরিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করেই বইটি লেখা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমেরিকার নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ী হওয়ার পর বিশ্ব রাজনীতিতে এক ধরনের অস্থিরতা ও পুনর্বিন্যাস শুরু হয়েছে। তাঁর মতে, এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় ভূ-রাজনীতির মতো জটিল বিষয় শুধু রাষ্ট্রনেতা বা কূটনীতিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সাধারণ দিনমজুর পর্যন্ত সবার জীবনে এর প্রভাব পড়ছে। ফলে ভূ-রাজনীতি আজ আর বিলাসী একাডেমিক আলোচনার বিষয় নয়, বরং বাস্তব জীবনের অনিবার্য অংশ।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ছয় দশকের রাজনৈতিক জীবনে তিনি জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির নানা ঘটনাপ্রবাহ খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন গবেষকের নিবন্ধ ও বই পাঠের মাধ্যমে উপলব্ধি করেছেন যে রাজনীতি মূলত দাবার চালের মতোই, প্রতিটি পদক্ষেপের পেছনে থাকে কৌশল, হিসাব ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।
তাঁর ভাষায়, "এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড যেন এক বিশাল দাবার বোর্ড, আর রাষ্ট্রগুলো সেখানে একেকটি ঘুঁটি।" "জিওপলিটিক্যাল চেসবোর্ড" বইটিতে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে ভারত, চীন ও রাশিয়ার জটিল কৌশলগত অবস্থান, পারস্পরিক প্রতিযোগিতা এবং সহযোগিতার দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এসব ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনের ফলে গোটা বিশ্বের উপর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, সেটি সীমিত পরিসরে বিশ্লেষণের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন লেখক সাহেদুর রহমান টেপা।
তাঁর দৃষ্টিতে, "যদি বিশ্ব শান্তি প্রত্যাশা করা হয়, তবে আমেরিকার মতো বড় রাষ্ট্র থেকে শুরু করে ভুটানের মতো ছোট দেশ, সবাইকে এক অভিন্ন পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। যদিও তিনি এশিয়া মহাদেশের মানুষ হিসেবে ভারত, চীন ও ইউরেশীয় রাশিয়ার গুরুত্বকে বিশেষভাবে তুলে ধরেন, তবুও যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক ভূমিকা ও প্রভাবকে অস্বীকার করেন না।
What's Your Reaction?