মহিপুরের ডালবুগঞ্জে মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে ক্যাম্পেইন
মহিপুর (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর মহিপুর থানাধীন ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নে মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর অপরাধের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি সুন্দর, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের উদ্যোগে ও মহিপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মসূচি ইউনিয়নের থানখোলা স্লুইসগেট, ডালবুগঞ্জ স্ট্যান্ড, পুলঘাট স্ট্যান্ড ও ফুলবুনিয়া স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হয়। ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণকারীরা মাদকাসক্তি, অনলাইন জুয়া ও কিশোর অপরাধের সামাজিক ক্ষতি তুলে ধরে জনসাধারণের মাঝে সচেতনতামূলক প্রচার চালান। এ সময় যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে শিক্ষা, ক্রীড়া ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মহিপুর থানার ওসি (তদন্ত) অনিমেষ হালদার, এসআই নজরুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ লিটন, যাত্রাবাড়ী থানার এসআই ও ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের কৃতিসন্তান মুনসুর আহমেদ, সরকারি মোজাহারউদ্দিন বিশ্বাস কলেজের প্রভাষক রাসেল শিকদার (সোহাগ), কুয়াকাটা ইসলামপুর দাখিল মাদরাসার সিনিয়র শিক্ষক মো. শাহ্ আলম দফাদার, ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান, সোহেল হাওলাদার ও মো. জসিম উদ্দিন, ডালবুগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আখতার ফারুক, মহিপুর বাজারের ব্যবসায়ী মো. শাহ্ আলম মুন্সী, মহিপুর প্রেসক্লাবের সদস্য মাইনুদ্দিন আল আতিক, সমাজকর্মী রিয়াজুল ইসলামসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, গ্রাম পুলিশ, যুবসমাজ ও সচেতন নাগরিকবৃন্দ। বক্তারা বলেন, মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর অপরাধ বর্তমানে সমাজের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগই যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তরুণ প্রজন্মকে নৈতিক মূল্যবোধ, শিক্ষা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। তারা আরও বলেন, এসব অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে এবং পরিবারভিত্তিক নজরদারি জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে তরুণদের জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সুস্থ বিনোদনের সুযোগ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে এবং অপরাধপ্রবণতা হ্রাস পাবে। সমাজের প্রতিটি মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানান বক্তারা। আয়োজকরা জানান, সমাজকে মাদক, অনলাইন জুয়া ও কিশোর অপরাধমুক্ত রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। স্থানীয়দের মধ্যে কর্মসূচিটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং এ ধরনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন তারা।
What's Your Reaction?