আদালতের স্পষ্ট নির্দেশও উপেক্ষিত, এক মাসেও উচ্ছেদ হয়নি অবৈধ দখল

Jul 14, 2026 - 16:23
 0  12
আদালতের স্পষ্ট নির্দেশও উপেক্ষিত, এক মাসেও উচ্ছেদ হয়নি অবৈধ দখল

জামালপুর সদর উপজেলার পলিশা (বেলটিয়া পুলিশ লাইন রোড) এলাকায় একটি নালিশি ভূমি থেকে অবৈধভাবে সৃষ্টি করা বাধা অপসারণে আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সাত কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ভূমি থেকে বাধা অপসারণ করে জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করার নির্দেশ দিলেও বাস্তবে এখনো সেই আদেশ কার্যকর না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

আদালতের নথি সূত্রে জানা যায়, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩৩ ধারায় দায়ের হওয়া মিস পিটিশন মামলা নং-১৫/২০২৬-এ বাদী মো. আব্দুল মজিদ, পিতা মো. ওয়াজেদ আলী শেখ, সাং-পলিশা (বেলটিয়া পুলিশ লাইন রোড), ডাকঘর বেলটিয়া মাদ্রাসা, থানা ও জেলা জামালপুর। মামলার বিবাদী মো. ইকবাল হোসেন গং, পিতা মৃত আলাউদ্দিন শেখ, একই এলাকার বাসিন্দা।

গত ১০ জুন ২০২৬ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ. কে. এম. আব্দুল্লাহ বিন রশিদ মামলাটির শুনানি শেষে গুরুত্বপূর্ণ আদেশ প্রদান করেন।

আদেশে উল্লেখ করা হয়, নির্ধারিত তারিখে বাদী আদালতে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ করেন যে, আদালতের পূর্ববর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী বিবাদীপক্ষ নালিশি ভূমি থেকে সৃষ্ট বাধা অপসারণ করেননি। পরে বিবাদীপক্ষ আদালতে উপস্থিত হয়ে একই জমি নিয়ে সিভিল আদালতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে দায়ের করা ২৩৮/২০২৬ নম্বর মামলা চলমান রয়েছে এবং সেখানে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে দাবি করে মামলার কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন করেন।

কিন্তু আদালত শুনানিকালে দেখতে পান, বিবাদীপক্ষ তাদের দাবির পক্ষে সিভিল আদালতের কোনো লিখিত নিষেধাজ্ঞার আদেশ দাখিল করতে পারেননি। এ কারণে আদালত বিবাদীপক্ষের স্থগিতাদেশের আবেদন নামঞ্জুর করেন।

পরবর্তীতে আদালত আদেশে বলেন, জামালপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদেশের তারিখ থেকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে নালিশি ভূমি থেকে বিবাদীপক্ষ কর্তৃক সৃষ্ট সকল বাধা অপসারণ করে জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করবেন। একই সঙ্গে অভিযান পরিচালনার সময় প্রয়োজনীয় পুলিশি সহায়তা দিতে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-কে নির্দেশ দেওয়া হয়।
 এছাড়াও বাধা অপসারণ শেষে আদালতে বাস্তবায়ন প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশও দেওয়া হয়।

আদালতের আদেশের অনুলিপি জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং মামলার উভয় পক্ষের কাছে পাঠানো হয়।

তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতের নির্দেশনার এক মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও সংশ্লিষ্ট ভূমি থেকে অবৈধ বাধা অপসারণ করা হয়নি। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ নিয়ে স্থানীয়দের দাবি, আদালতের আদেশ দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি নির্দেশনার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং জনসাধারণের চলাচলের পথ উন্মুক্ত করা হোক। অন্যথায় আদালতের নির্দেশনা অমান্যের একটি নজির সৃষ্টি হবে। 

বাদীপক্ষের দাবি, আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে বিবাদীপক্ষ পরবর্তীতে একই ভূমি নিয়ে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সিভিল আদালতে মামলা দায়ের করেন। তবে সেই মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থাতেই প্রায় সাত দিন আগে তারা বিতর্কিত নালিশি ভূমির ওপর একটি স্থায়ী ঘর নির্মাণ করেন। এতে আদালতের আদেশের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের পাশাপাশি বিরোধপূর্ণ জমির বর্তমান অবস্থা পরিবর্তনেরও অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে জামালপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হায়দার বলেন, 


বাদী পক্ষ এখানে ১৪৪ ধারা মামলা করেছিলো। তাই সেখানে আদালত থেকে উচ্ছেদের আদেশ দেওয়া হয়। পরে বিবাদী পক্ষ আবার আদালতে যায়। তারা একটা চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন। তবে বিবাদী পক্ষ এখনো চিরস্থায়ী কোন নিষেধাজ্ঞা পায় নি।কিন্ত পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে স্থিতবস্থা থাকবে মর্মে একটা আদেশ আদালতে আছে। আদালতের আদেশ অমান্য করতে পারছি না বলেই কোন ব্যবস্থা নিতে পারছি না। 

নিষেধাজ্ঞা থাকার পরেও নতুন করে বিবাদী পক্ষের  স্থাপনা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেখানে নতুন কোন স্থাপনা হলে এটি আদালতের রায় অমান্য করা হবে। সেক্ষেত্রে বাদী আদালতকে এই বিষয়ে জানাতে পারেন। 

মেহেদী হাসান 
জামালপুর। 
১৪-০৭-২০২৬

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow