গবাখাল বাঁচানোর অভিযানে ঝাঁপিয়ে পড়লেন সোহেল রানা খান
দীর্ঘদিনের অবহেলা, দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়া জামালপুর শহরের ঐতিহাসিক গবাখাল পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে এবার সরাসরি মাঠে নেমেছেন জেলা যুবদলের সদস্য সচিব ও জামালপুর পৌরসভার মেয়র প্রার্থী সোহেল রানা খান।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে শহরের ছোটঘর এলাকা থেকে কচুরিপানা ও আবর্জনা পরিষ্কারের কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি। স্থানীয় নেতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের নিয়ে সকাল থেকেই শুরু হয় এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান।
দীর্ঘদিন ধরে কচুরিপানা, প্লাস্টিক, পলিথিন ও বিভিন্ন ধরনের বর্জ্যে ভরে থাকা গবাখালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় খালটি পরিষ্কার করে পুনরায় সচল করার উদ্যোগকে স্থানীয়রা ইতিবাচকভাবে দেখছেন।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়ে সোহেল রানা খান বলেন, জামালপুর শহরকে জলাবদ্ধতা, পরিবেশ দূষণ ও ভবিষ্যতের বন্যার ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে গবাখালকে পুনরুজ্জীবিত করার কোনো বিকল্প নেই। নাগরিকদের সচেতনতার পাশাপাশি সামাজিক উদ্যোগও প্রয়োজন। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই এই কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, এটি কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়, বরং পর্যায়ক্রমে পুরো খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, গবাখাল শুধু একটি খাল নয়, এটি জামালপুর শহরের প্রাণ। এই খাল সচল থাকলে শহরের পানি দ্রুত নিষ্কাশন হবে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পাবে এবং জলজ প্রাণীর আবাসস্থলও ফিরে আসবে। শহরবাসীর সহযোগিতা পেলে গবাখালকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে।
জানা গেছে, জামালপুর শহরকে জলাবদ্ধতা ও বন্যার কবল থেকে রক্ষা এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৬০ সালে গবাখালটি খনন করা হয়। প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৩০ ফুট প্রশস্ত এই খালটি পৌরসভার শেখের ভিটা এলাকা থেকে শুরু হয়ে মনিরাজপুর, ছোটঘর, সিংড়িবিল, পলিশা, ধোপাকুড়ি, নাকাটি ও দামেশ্বর হয়ে কেন্দুয়া কালিবাড়ি বাজারসংলগ্ন ঝিনাই নদীর সঙ্গে সংযুক্ত ছিল।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে খালটি দখল, ভরাট ও দূষণের শিকার হয়। দুই পাড়ে গড়ে ওঠে অসংখ্য স্থাপনা। গৃহস্থালি বর্জ্য, চিকিৎসা বর্জ্য, প্লাস্টিক, পলিথিন এবং বিভিন্ন অপচনশীল বর্জ্য ফেলে খালটিকে কার্যত ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন পয়োনিষ্কাশনের নালা সরাসরি খালের সঙ্গে সংযুক্ত করায় পানিদূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
বর্তমানে পুরো খাল কচুরিপানায় ঢেকে থাকায় স্বাভাবিক পানি প্রবাহ প্রায় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে মাছসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর অস্তিত্বও প্রায় বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে গবাখালের এমন বেহাল অবস্থার কারণে বর্ষাকালে শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। অনেকেই খালটি সংস্কার ও পরিষ্কারের দাবি জানিয়ে এলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। এমন অবস্থায় সোহেল রানা খানের নেতৃত্বে শুরু হওয়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম স্থানীয়দের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
অভিযানে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীরা জানান, গবাখালকে দখল ও দূষণমুক্ত করতে এবং শহরের পরিবেশ রক্ষায় ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা শহরবাসীকেও খালে বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানান।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু কচুরিপানা অপসারণেই সীমাবদ্ধ না থেকে গবাখালকে সম্পূর্ণ দখলমুক্ত ও পুনঃখননের মাধ্যমে আগের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
মেহেদী হাসান
জামালপুর।
১৩-০৭-২০২৬
What's Your Reaction?