বিদ্যুৎ লাইনের তদারকির নামে লুটপাট ৭৫ কিমি সেকশনে অবৈধ সংযোগ, মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ

Jul 4, 2026 - 12:02
Jul 4, 2026 - 12:06
 0  4
বিদ্যুৎ লাইনের তদারকির নামে লুটপাট ৭৫ কিমি সেকশনে অবৈধ সংযোগ, মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ
দীর্ঘদিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছে ভৈরবের ১৯৫৩ সালে স্থাপিত রেলওয়ের বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের ছবি

শাহ সারওয়ার নিজস্ব প্রতিবেদক, কিশোরগঞ্জ বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের কিশোরগঞ্জ-ভৈরব সেকশনের ৭৫ কিলোমিটার রেললাইনের বিদ্যুৎ লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির দায়িত্বে চরম অবহেলা এবং রেলের সম্পদ ব্যবহার করে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

এতে সরকারের লাখ লাখ টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে। জাতীয় দৈনিক এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদক এর সরেজমিন অনুসন্ধানে এ তথ্য বেরিয়ে আসে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানে জানা যায়, উক্ত সেকশনের বিদ্যুৎ লাইনের তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন ফোরম্যান আল মামুন। তার অধীনেই লাইনম্যান হিসেবে কর্মরত আছেন টিপু সুলতান। ১. দায়িত্বে অবহেলা ফোরম্যান আল মামুন ৭৫ কিমি দীর্ঘ রেললাইনের বিদ্যুৎ লাইনের নিয়মিত পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণ করছেন না। ফলে লাইনে ঝুঁকি বাড়ছে। ২. অবৈধ সংযোগ ও চাঁদাবাজি-লাইনম্যান টিপু সুলতান কিশোরগঞ্জ ও ভৈরব রেলস্টেশন এলাকার বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ও দোকানে রেলওয়ের বিদ্যুৎ লাইন থেকে অবৈধ সংযোগ প্রদান করছেন। বিনিময়ে প্রতি মাসে মোটা অংকের "মান্থলি" আদায় করা হচ্ছে। ৩. রাজস্ব ক্ষতি: অবৈধ সংযোগের কারণে প্রতি মাসে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, বিউবো কিশোরগঞ্জ এর বিলের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই বিলের দায়ভার বহন করতে হচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়েকে। তথ্যসূএে জানাগেছে গতমাসে রেল কতৃপক্ষের নিকট থেকে ১, ৩০ ০০০/- টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। বকেয়া রয়েছে প্রায় ১২ লক্ষ টাকা ।

 সরেজমিনে ভৈরব বাজারে অবস্থিত উর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন কে মুঠো ফোনে অনিয়ম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাহিদ হোসেন এর সংগে যোগাযোগ করতে বলেন। ১৯৫৩ সালে স্থাপিত বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রে গিয়ে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও তালাবদ্ধ অবস্থা দেখা যায়।

 এলাকাবাসীর বক্তব্য এই অনিয়মের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিশোরগঞ্জ ও ভৈরব স্টেশনের স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলেন, _"রেলের লাইন থেকে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ নিয়ে দোকান ও বাসায় সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। এর জন্য প্রতি মাসে চাঁদা নেওয়া হয়। আমরা চাই দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দেওয়া হোক।"_ তারা আরও বলেন, _"রেলের সম্পদ রক্ষা ও সরকারের রাজস্ব ফাঁকি বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।"_ এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow