নবম পে-স্কেল চূড়ান্ত: এলপিআর-এ থাকা কর্মকর্তারাও পাচ্ছেন বিশেষ সুবিধা
ঢাকা: সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও বর্তমান বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল চূড়ান্তকরণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন এই বেতন স্কেল কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এবারের পে-স্কেলে কর্মরতদের পাশাপাশি এলপিআর (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটি) ভোগরত কর্মকর্তাদের জন্যও থাকছে বড় সুখবর।
বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো নিয়ে বিশেষ পর্যালোচনা
জনপ্রশাসন সংক্রান্ত পে কমিশনের সুপারিশগুলো চূড়ান্ত রূপ পেলেও বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর বেতন কাঠামো নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা চলছে। প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে এবং সব পক্ষের যৌক্তিক দাবি বিবেচনায় নিয়ে খুব দ্রুতই তাদের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তাবনা পেশ করা হবে। এ লক্ষ্যে সচিব কমিটি শিগগিরই আরেকটি জরুরি সভার ডাক দিতে পারে বলে জানা গেছে।
অবসরগামী কর্মকর্তাদের জন্য সুখবর
নতুন বেতন স্কেলে পিআরএল বা এলপিআর-এ থাকা কর্মকর্তাদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সুবিধার ঘোষণা আসতে যাচ্ছে। বর্তমানে যারা অবসর-উত্তর ছুটিতে রয়েছেন, তারাও নবম পে-স্কেলের আওতায় সুবিধাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবেন। সরকারের এই মানবিক সিদ্ধান্তের ফলে অবসরগামী কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে। এই খবরটি নিশ্চিত হওয়ার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে।
কার্যকর ১ জুলাই, বকেয়াসহ টাকা মিলবে অক্টোবরে
আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হলেও প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগবে। ফলে বর্ধিত বেতনের আর্থিক সুবিধা হাতে পেতে সরকারি চাকরিজীবীদের আগামী অক্টোবর মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। তবে জুলাই মাস থেকেই এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন শুরু হবে এবং বকেয়াসহ টাকা সরকারি খরচের সামঞ্জস্য বজায় রেখে পরিশোধ করা হবে।
বেতন বৃদ্ধির ৩টি বিকল্প প্রস্তাবনা
নবম পে-স্কেলে ঠিক কত শতাংশ হারে মূল বেতন বৃদ্ধি পাবে, তা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে সরকার তিনটি ভিন্ন বিকল্প নিয়ে কাজ করছে:
-
প্রথম প্রস্তাব: সব গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতনের ওপর ফ্ল্যাট ৫০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি।
-
দ্বিতীয় প্রস্তাব: ১ম থেকে ৯ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ৬০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি।
-
তৃতীয় প্রস্তাব: নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের কথা মাথায় রেখে তাদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ (শতভাগ) পর্যন্ত বৃদ্ধির বিশেষ প্রস্তাব।
মূলত দেশের বর্তমান মুদ্রাস্ফীতি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ বেতন কাঠামো প্রবর্তনের চেষ্টা করছে, যাতে সর্বস্তরের সরকারি চাকরিজীবীরা উপকৃত হন এবং কর্মক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়।
What's Your Reaction?