গ্রাম আদালতের কার্যক্রম গতিশীল করতে বাসাইলে দিনব্যাপী কর্মশালা
বাসাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ
গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন’ বিষয়ক অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৮ জুন) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
‘অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে—চলো যাই গ্রাম আদালতে’ এই শ্লোগানের উপর জোর দিয়ে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ৩য় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইকবাল হোসেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনডিপির সহযোগিতায় এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ পরিচালিত এ প্রকল্পের আওতায় ৬১ টি জেলার মধ্যে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় গ্রাম আদালত পরিচালিত হচ্ছে।
ফেব্রুয়ারি ২০২৪ থেকে এপ্রিল ২০২৬—এই সময়ে বাসাইল গ্রাম আদালতে দায়েরকৃত ৬৬৮টি মামলার প্রতিটিই সফলভাবে নিষ্পত্তি ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে। শতভাগ সাফল্যের এই যাত্রায় আদায়কৃত ক্ষতিপূরণের পরিমাণ ১ লাখ ৯ হাজার ১০৫ টাকা। এই বিচারিক সেবায় ১২১ জন নারী সরাসরি আবেদনকারী হিসেবে ন্যায়বিচার পেয়েছেন। পাশাপাশি, স্থানীয় পর্যায়ে ১.২৫ লক্ষেরও বেশি নারী-পুরুষকে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের আওতায় আনা হয়েছে।
প্রকল্পের টাঙ্গাইল সদর উপজেলা সমন্বয়কারী মো: সাখাওয়াত হোসেনের পরিচালনায় কর্মশালায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, জেলা ম্যানেজার মো: সাইয়্যেদ আহমেদ, বাসাইল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কনিকা মল্লিকা, বাসাইল উপজেলা সমন্বয়কারী মো: রুহুল আমিন প্রমুখ।
এ সময় উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান খান (তুহিন), উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সদস্য সচিব আব্দুস সবুর খান (চানু), বাসাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় জানানো হয় গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তিযোগ্য ফৌজদারী মামলার মধ্যে চুরি, দাঙ্গা, প্রতারণা, ঝগড়া বিবাদ, কলহ বা মারামারি, ভয়ভীতি দেখানো বা হুমকি দেয়া, কোন নারীর শালীনতাকে অমর্যাদা বা অপমানের উদ্দেশ্যে কথা বলা, অঙ্গভঙ্গি করা বা অন্য কোনো কাজ করা, গচ্ছিত কোনো মূল্যবান সম্পত্তি আত্মসাৎ করা, পশুহত্যা, ক্ষতি সাধন এবং দেওয়ানী মামলার মধ্যে পাওনা টাকা আদায় সংক্রান্ত, স্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত, অস্থাবর সম্পত্তি উদ্ধার বা তার মূল্য আদায় সংক্রান্ত, কোনো অস্থাবর সম্পত্তি জবর দখল বা ক্ষতি করার জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় সংক্রান্ত, গবাদিপশুর অনধিকার প্রবেশের কারণে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত, গবাদিপশুর মেরে ফেলা বা গবাদিপশুর ক্ষতি সংক্রান্ত, কৃষি শ্রমিকদের পরিশোধযোগ্য মজুরি ও ক্ষতিপূরণ আদায় সংক্রান্ত, স্ত্রী কর্তৃক বকেয়া খোরপোষ আদায় ইত্যাদি।
উল্লেখ্য, গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ অনুযায়ী দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের এখতিয়ারাধীন এলাকায় কতিপয় দেওয়ানী ও ফৌজদারী বিরোধ ও বিবাদের সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত গঠিত হয়।
বিরোধীয় পক্ষদের মনোনীত সমসংখ্যক সদস্য অর্থাৎ আবেদনকারী এবং প্রতিবাদী পক্ষ হতে ২ জন করে এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সহকারে মোট ৫ জন নিয়ে গ্রাম আদালত প্যানেল গঠন করা হয়।
দেওয়ানী মামলায় ২০ টাকা এবং ফৌজদারী মামলার ক্ষেত্রে ১০ টাকা ফি দিতে হবে। মামলার শুনানির কার্যক্রম শুরু হবার অনধিক ৯০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। উক্ত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে না পারলে অতিরিক্ত ৩০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ১’শ ২০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
মোহাম্মদ নাসির মিয়া
বাসাইল, টাঙ্গাইল
০৮/০৬/২০২৬
০১৯২৬৮০৫৬০৫
What's Your Reaction?