পাউবোর ৮ কোটি টাকার প্রকল্পেই, পাকা রাস্তা এখন কাঁচা!
শামীম শাহরীয়ার রাফি, সিরাজগঞ্জ: নেই মাকুর শব্দ, নেই আর ক্রেতার সমাগম। একসময় কৈজুরী , সৈয়দপুর, পাঁচিল, রূপসী ও খোকশাবাড়ীহাট সহ প্রতিদিন হাজার হাজার ক্রেতা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এনায়েতপুরের এই হাট গুলোতে আসতো। এই এলাকায় যোগাযোগের একমাত্র পাকারাস্তা ধরে এই হাট গুলো বসত। হাট কেন্দ্রিক তাঁতের তৈরি শাড়ি লুঙ্গি গামছা ধুতি তৈরি করে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের জীবিকা নির্বাহ হত। কিন্তু হঠাৎ সেই চলাচলের একমাত্র পাকা রাস্তা তুলে তার উপর তিন ফুট মাটি ভরাট করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। বাকি প্রকল্প কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে তাও বলতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এতে আমরা তাঁতীরা কর্ম হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। কথা গুলো বলছিলেন, তাঁত শ্রমিক আব্দুর রহিম। এসময় তিনি আরও জানান, এক সময় এই রাস্তা ব্যবহার করে ঢাকার বড় বড় বাস শাহজাদপুরে যাতায়াত করত। এখন কোনো গাড়ি আসতে চায় না। আমরা সুতা আনতে পারছি না। দীর্ঘ এক বছর ধরে কারখানা বন্ধ। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। সিরাজগঞ্জ সড়ক বিভাগ বলছে, ছয় বছর আগে সিরাজগঞ্জ সড়ক বিভাগ থেকে ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল এনায়েতপুর থেকে কৈজুরী বাজার পর্যন্ত ৮ কিলোমিটারের পাকা রাস্তা । এনায়েতপুর এলাকায় ব্যবসায়ী হাবিবুর জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে গত বছর পাকা সড়কই উঠিয়ে বাঁধ উচু করে, তিন ফুট করে মাটি ভরাট করে, এখন পরিণত হয়েছে কাঁচা রাস্তায়। বর্ষায় কাদা, শুকনো মৌসুমে ধুলা আর অসংখ্য খানাখন্দে চরম দুর্ভোগ আছি। এসময় তিনি আরও জানান, গত ত্রিশ বছরের মধ্যেও বাঁধে কোনো পানি উঠেনি। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, এইটি সড়ক নয় এটি বাঁধ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিবেচনায় এটি উঁচু করা হয়েছে। দুই বছর আগে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ উঁচু করতে সড়কের ওপর ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মাটি ফেলার প্রকল্প নেয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। সিরাজগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, এইটি রাস্তা নয় এটি বাঁধ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিবেচনায় এটি উঁচু করা হয়েছে। সড়ক বিভাগ থেকে একটি মেগা প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এবিষয়ে সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সুমেল জানান, সয়দাবাদ থেকে এনায়েতপুর হয়ে পাবনা পর্যন্ত তিনটি সড়ক মিলিয়ে প্রায় ৮৮ কিলোমিটার আধুনিক মহাসড়ক নির্মাণের একটি মেগা প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যার সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। এসময়,মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন কবে শুরু হবে, প্রশ্ন করা হলে, তিনি জানান, প্লানিং কমিশনে আছে। কাজ বাস্তবায়নে সময় লাগবে। এলাকাবাসীর দাবি, ভবিষ্যতের প্রকল্পের অপেক্ষায় না রেখে আগে যে পাকা সড়কটি কাঁচা হয়ে গেছে, সেটি দ্রুত পুনর্নির্মাণ করে চলাচলের উপযোগী করা হোক। কারণ প্রতিদিন এই দুর্ভোগের ভার বইতে হচ্ছে লক্ষাধিক মানুষকে। শামীম শাহরীয়ার রাফি সিরাজগঞ্জ ১০-০৮-২৬
What's Your Reaction?