চাঁদা দাবির অভিযোগে জামালপুরে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ
জামালপুর মডেল আলিম মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষকে চাঁদা দাবিসহ হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বিক্ষোভ করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা প্রায় এক ঘণ্টা গেইটপাড় থেকে পাঁচ রাস্তা মোড় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরের দিকে জামালপুর শহরের সরদারপাড়া এলাকায় জামালপুর মডেল আলিম মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মোঃ শাহাদৎ হোসেন দীর্ঘ প্রায় ২৪ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। মঙ্গলবার সকালে তিনি মাদ্রাসার অফিস কক্ষে অবস্থানকালে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি মাদ্রাসার ভেতরে প্রবেশ করে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
এ সময় অধ্যক্ষ তাদের গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে অভিযুক্তরা তাকে মারধরের জন্য উদ্যত হন। পরে তার ডাক-চিৎকারে মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে রক্ষা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অধ্যক্ষের অভিযোগ, অভিযুক্তরা মাদ্রাসা থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। টাকা না দিলে তাকে এলাকায় মাদ্রাসা পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মারধর এবং খুন-জখমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভে নামেন। একপর্যায়ে তারা গেইটপাড় থেকে পাঁচ রাস্তা মোড় সড়কে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ থাকায় ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সংশ্লিষ্টদের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এ বিষয়ে জামালপুর থানায় অভিযুক্ত তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ শাহাদৎ হোসেন। অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন, মোঃ তিমন, মোছাঃ সখি বেগম ও মোছাঃ বিউটি বেগম।
মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে অধ্যক্ষকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনায় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দ্রুত তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের তিমন এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়ার সু্যোগ হয় নি।
মেহেদী হাসান
জামালপুর।
২১-০৭-২০২৬
What's Your Reaction?