মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, মামলা নিতে গড়িমসির প্রতিবাদে থানার সামনে পরিবারের অবস্থান
জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনের সামনে থেকে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক স্ত্রী, তার বাবা ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে। ঘটনার একদিন পার হলেও নিখোঁজ ওই শিক্ষার্থীর কোনো সন্ধান না মেলায় উৎকণ্ঠা আর কান্নায় ভেঙে পড়েছে পরিবার।
একই সঙ্গে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও মামলা নিতে গড়িমসি করেছে মাদারগঞ্জ থানা পুলিশ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে নিখোঁজের স্বজনরা থানার সামনে অবস্থান নিয়ে দ্রুত উদ্ধার ও আসামীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
নিখোঁজ যুবকের নাম মোঃ আঃ কাদের জিলানী (২০)। তিনি জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ীর একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেন।
এ ঘটনায় কাদের জিলানীর বাবা ফজলুল হক (৫২) বাদী হয়ে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে সুমাইয়া আক্তার (২১), তার বাবা মোঃ মুক্তা (৪৫), ও আব্দুল্লাহ তানভীর (২০) সহ আরও কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে কাদের জিলানীর সঙ্গে সুমাইয়া আক্তারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তবে দাম্পত্য কলহের জেরে একপর্যায়ে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের পর কাদের জিলানী ঢাকায় গিয়ে মাদ্রাসায় পড়াশোনা শুরু করেন। ঈদের ছুটিতে বাড়িতে আসার পর গত সোমবার (৮ জুন) ময়মনসিংহ থেকে বন্ধু পরিচয়ে আব্দুল্লাহ তানভীর তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। পরদিন মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে কাদের জিলানী ও তানভীর ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে রওনা দেন। সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে জামালপুর রেলওয়ে স্টেশনের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি তাদের বহনকারী সিএনজির গতিরোধ করে। অভিযুক্তরা কাদের জিলানীকে গাড়ি থেকে নামতে বললে তিনি অস্বীকৃতি জানান। এ সময় তার বুকে দেশীয় অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে তাকে জোরপূর্বক সিএনজি থেকে নামিয়ে অপর একটি সিএনজিতে তুলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কাদের জিলানীর সঙ্গে থাকা বন্ধু আব্দুল্লাহ তানভীর পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে স্বজনরা দ্রুত রেলস্টেশনে পৌঁছে স্থানীয়দের কাছ থেকেও একই তথ্য জানতে পারেন। পরে আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি তারা।
পরিবারের আশঙ্কা, কাদের জিলানীকে জোরপূর্বক কোথাও আটকে রাখা হয়েছে। এমনকি তাকে হত্যার পর লাশ গুমের আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেছেন তারা।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে মামলা নিতে গড়িমসি করেছে মাদারগঞ্জ থানা পুলিশ। মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ তানভীরকে স্থানীয় লোকজন জামালপুর রেলস্টেশনের সামনে থেকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করলেও মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি বলে দাবি তাদের।
ঘটনার একদিন পেরিয়ে গেলেও কাদের জিলানীর সন্ধান না মেলায় বুধবার সকাল থেকে মাদারগঞ্জ মডেল থানার সামনে অবস্থান নেন পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, দ্রুত অভিযান চালিয়ে নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
এ ব্যাপারে সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান ভুঞা মুঠোফোনে সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাটি জামালপুর সদর থানা এলাকায় ঘটেছে। তবে ভুক্তভোগী আমাদের থানার এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় তাকে দ্রুত উদ্ধারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হচ্ছে।
মেহেদী হাসান
জামালপুর।
১০-০৬-২০২৬
What's Your Reaction?