মিরসরাইয়ে মুরুসি সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ, ১৫–২০ সালিসেও মেলেনি সমাধান

Jun 6, 2026 - 18:13
 0  19
মিরসরাইয়ে মুরুসি সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ, ১৫–২০ সালিসেও মেলেনি সমাধান

মিরসরাই,চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার নিজামপুর  মাইজগাঁও গ্রামে মুরুসি সম্পত্তি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। 

স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিয়ে গত এক যুগে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি সালিস বৈঠক হলেও এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। 

এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তির একটি অংশের মালিক ছিলেন শফিউল ইসলাম। 
তাঁর কাছ থেকে জায়গা ক্রয় করেন মো. ইলিয়াস হোসেন।

 অপরদিকে আবু তাহের ও তাঁর পরিবারও সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির উত্তরাধিকারসূত্রে দাবি করে আসছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সালিসদার জানান, মাইজগাঁও মৌজার আরএস ২৪১৩ দাগের জায়গা নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। 

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শফিউল ইসলাম পিতা  দেলোয়ার হোসেনের পক্ষ খরিদা সূত্রে জায়গার মালিকানা দাবি করে। 

তবে দেলোয়ার হোসেনের খরিদা জমির অংশে আবু তাহেরের পরিবার প্রায় ৩ শতক ৬ পয়েন্ট জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, ২০১৪ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত একাধিক সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 সর্বশেষ এক বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিদের সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয় যে, আরএস ২৪১৩ দাগে আবু তাহেরের দখলে থাকা জায়গার সমপরিমাণ জমি তাঁর মালিকানাধীন আরএস ২৪১২ দাগ থেকে শফিউল ইসলাম বা ইলিয়াস হোসেনের নামে রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হবে। 

তবে সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়িত হয়নি।
সালিস বৈঠকগুলোতে উপস্থিত ছিলেন মনোয়ার হোসেন, নুরুদ্দিন, ফেরদৌস ও আবুলসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

 স্থানীয় সালিসদার এনামুল হক বলেন, “বিষয়টি নিয়ে বহুবার বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে উভয় পক্ষই অনেক সময় সম্মতি দেয়, কিন্তু পরে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আগ্রহ দেখায় না।

এদিকে ইলিয়াস হোসেনের স্ত্রী হাজরা খাতুন অভিযোগ করেন, তাঁদের চলাচলের রাস্তা বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমাদের তিন শতক জমি তাদের ভবনের মধ্যে রয়েছে। 

বাজার থেকে কিছু আনলে গাড়ি ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয় না। আমার স্বামী বিদেশে থাকেন। আমার ছেলেকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। আমি আতঙ্কের মধ্যে আছি।

 আমরা খরিদা সূত্রে জমির মালিক হয়েছি। বর্তমান বিএস খতিয়ানেও এসব জায়গার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবু তাহেরের ছেলে মোহাম্মদ আবু সায়িদ। তিনি বলেন, “আমরা কারও সঙ্গে ঝগড়া করি না, চলাচলের পথও বন্ধ করিনি। উল্টো বিভিন্ন জায়গায় আমাদের নিয়ে গিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “আরএস ২৪১৩ দাগ আমাদের মুরুসি সম্পত্তি এবং ২৪১২ দাগ আমার দাদুর সম্পত্তি। শফিউল ইসলাম ২০১৫ সালে জমি বিক্রি করার পর আমরা ২০১৬ সালে এ বিষয়ে মামলা করি। যার মামলার নম্বর ৯২/২০১৬। বর্তমানে এ সংক্রান্ত আরেকটি মামলা (নং ৬০৬/২০২১) বিচারাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই বিরোধের কারণে এলাকায় অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তাঁরা উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, আদালতে বিচারাধীন বিষয়গুলোর আইনগত নিষ্পত্তির পাশাপাশি পারস্পরিক সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হলে দীর্ঘদিনের এ বিরোধের অবসান হতে পারে। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow