১০ বছর পর: চরফ্যাশনের ছাত্রদল সভাপতির হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়

Oct 3, 2025 - 07:26
 0  54
১০ বছর পর: চরফ্যাশনের ছাত্রদল সভাপতির হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়

চরফ্যাশন প্রতিনিধি: ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা—২০১৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর চেয়ারম্যান বাজারে ঘটে যাওয়া বর্বর হত্যাকাণ্ডটি আজও এই অঞ্চলের মানুষের মনে গভীর শোক ও আতঙ্কের ছাপ রেখেছে। তখনকার চরফ্যাশন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাজ্জাককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের চূড়ান্ত রহস্য এখনো পুরোপুরি উদ্ঘাটিত হয়নি। সম্প্রতি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে হাজারীগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক নেতা ও বর্তমান যুবদল নেতা হাসান মিজির বিরুদ্ধে। গভীর অনুসন্ধানে জানা গেছে, তৎকালীন সময় রাজ্জাক ও হাসান মিজির মধ্যে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ। রাজ্জাক চেয়ারম্যান বাজার যাওয়ার আগে হাসান মিজির সঙ্গে দেখা করেছিলেন, চা খেয়ে বোনের বাসায় যাওয়ার পথে হত্যাকাণ্ড ঘটে। তবে সূত্রের দাবি, এই বন্ধুত্বের আড়ালে ছিল ভিতরগত মনোমালিন্য। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, হাসান মিজি তৎকালীন শশীভূষণ থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লোকমান মাতাব্বরসহ ৮-১০ জন ছাত্রলীগ কর্মীকে এই হত্যাকাণ্ডে সহযোগিতা করতে তথ্য দিয়েছেন। মূলত, রাজ্জাক চেয়ারম্যান বাজারে আসবেন এমন তথ্যই হত্যাকারীদের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছে। চরফ্যাশন এবং হাজারীগঞ্জ অঞ্চলের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদল এবং যুবদলের মধ্যে শক্তির দ্বন্দ্ব ও প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রবাহিত। রাজ্জাক হত্যা এই দ্বন্দ্বের একটি চরম রূপ হিসেবে দেখা যায়। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ হত্যাকাণ্ড কেবল ব্যক্তিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও দখলের সংঘাতের ফল। হত্যার ১০ বছর পরও মামলাটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। স্থানীয় আইনজীবী ও অনুসন্ধানকারীরা জানিয়েছেন,নতুন তথ্য ও প্রমাণসমূহ উঠে এসেছে, যা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার সন্দেহে হাসান মিজির দিকে ইঙ্গিত করছে। স্থানীয়দের দাবি,রাজ্জাক হত্যা সেই সময়কার ছাত্রদলের মধ্যে ক্ষমতার দখল ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের জন্য একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল। আমরা জানতাম, রাজ্জাক চেয়ারম্যান বাজারে যাবেন, কিন্তু এটি যে এমন ভয়ংকর পরিণতি আনবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি,”– বললেন এক প্রত্যক্ষদর্শী।ঘটনাটি শুধু রাজনীতির ক্ষেত্রেই নয়, চরফ্যাশন উপজেলার সামাজিক জীবনে দীর্ঘদিনের আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা আজও এই হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি মনে রেখে সতর্ক জীবনযাপন করেন। কে বা কারা হাসান মিজির মাধ্যমে এই তথ্য লোকমান মাতাব্বরের কাছে পৌঁছিয়েছে? হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত পরিকল্পনাকারী কে? ১০ বছর পর কি বিচার কার্যকর হবে, নাকি ইতিহাসের পাতায় থাকবে অপরিষ্কার?এই হত্যাকাণ্ডের মূল ঘটনার তদন্ত এখনও চলমান এবং নতুন প্রমাণাদি তুলে ধরতে পারে চরফ্যাশনের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটের আরও গভীর সত্য।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow