কিশোরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রী: ‘১৭ বছর কোথায় ছিলেন?’-২০২২ সালেই বিএনপির সংস্কার প্রস্তাব ছিল
শাহ সারওয়ার, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
“আজ যারা সংস্কার, সংস্কার বলছেন—তারা গত ১৭ বছর কোথায় ছিলেন?”—কিশোরগঞ্জে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পুরাতন স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সম্মানী প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রশ্ন করেন। প্রধানমন্ত্রী জনগণকে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর যারা গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে ছিলেন, তাদের অনেকেই বিভিন্নভাবে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। অথচ এখন অনেকে রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে নানা কথা বলছেন। জনগণকে এসব বিষয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংস্কারের আলোচনা নতুন কোনো বিষয় নয়। বিএনপি অনেক আগেই রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তন ও সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে। ২০২২ সালের ১৯ ডিসেম্বর বিএনপি রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের জন্য ২৭ দফা রূপরেখা ঘোষণা করেছিল। ওই রূপরেখায় সংবিধান সংস্কার কমিশন, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার, রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন সংস্কারের প্রস্তাব ছিল।
বিএনপির ২৭ দফা প্রণয়নের ক্ষেত্রে দলটির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ‘ভিশন-২০৩০’-এর কথাও দলীয়ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে ২৭ দফাকে সম্প্রসারিত করে ৩১ দফা রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা দেওয়া হয়।
ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও ভাতা প্রদান
অনুষ্ঠানে নারী পরিবারপ্রধানদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ইমাম-মুয়াজ্জিন, পুরোহিত-সেবায়েত এবং চার্চ, গির্জা ও প্যাগোডার প্রতিনিধিদের মধ্যে ৫ হাজার, ৩ হাজার ও ২ হাজার টাকা করে ভাতা প্রদান করা হয়।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু ইউসুফ। বক্তব্য রাখেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আলহাজ্ব আবু আল আজাদ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি, অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন এমপি, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান এমপি, মাজহারুল ইসলাম এমপি, ব্যারিস্টার ফারজানা এমপি এবং শামীম কায়সার লিংকন এমপি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশকে একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্রে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য। নারীদের স্বনির্ভর ও শিক্ষিত করে গড়ে তোলার পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, উপকারভোগী নারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
What's Your Reaction?