ব্ল্যাকবোর্ডে ‘জুলাই শহীদ’স্মরণে অবমাননা ,প্রধান বক্তা যুবলীগ নেতা
নিজস্ব প্রতিবেদক ভোলা ।
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চর আইচা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জুলাই শহীদদের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও দক্ষিণ আইচা থানা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেম শাহর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রিন্টেড ব্যানারের পরিবর্তে শ্রেণিকক্ষের ব্ল্যাকবোর্ডে সাদা চক দিয়ে "জুলাই শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা"লিখে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করা হয়। একই অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন,দক্ষিণ আইচা থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং সাবেক চর মানিকা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মহিউদ্দিন সাল।
অনুষ্ঠানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনদের একটি বড় অংশ প্রশ্ন তুলেছেন, জুলাই শহীদদের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের স্মরণসভা কেন ব্যানার ছাড়া ব্ল্যাকবোর্ডে লিখে আয়োজন করা হলো। তাঁদের ভাষ্য, শহীদদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এমন আয়োজন মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই সাথে আওয়ামী লীগের দোসর কিভাবে জুলাই শহীদের স্মরণে প্রধান বক্তা হয়?
সমালোচকদের আরও প্রশ্ন, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে এবং একই সঙ্গে দক্ষিণ আইচা থানা বিএনপির সভাপতি হিসেবে আবুল কাশেম শার দায়িত্ব ছিল কর্মসূচিটি যথাযথ মর্যাদায় সম্পন্ন করা। তাঁদের মতে, একটি সাধারণ ব্যানারেরও ব্যবস্থা না হওয়া এবং এমন আয়োজনের অনুমোদন দেওয়া নিয়ে তাঁর ভূমিকা স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এছাড়া অনুষ্ঠানে দক্ষিণ আইচা থানা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক পরিচয়ধারী একজন শিক্ষককে প্রধান বক্তা করা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, জুলাই শহীদদের স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একজন যুবলীগ নেতাকে প্রধান বক্তা করার সিদ্ধান্ত কে নিয়েছেন এবং কী বিবেচনায় তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করছেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল। তাঁদের দাবি, এ ঘটনার বিষয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম শাহ কিংবা সহকারী শিক্ষক মহিউদ্দিন সালের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
What's Your Reaction?