প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে অনার্স-মাস্টার্স, তবুও মেলেনি সরকারি চাকরি, আনিসের শেষ স্বপ্ন কি পূরণ হবে কোনোদিন?
শাহ সারওয়ার, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি। প্রতিবন্ধকতা কখনোই তার স্বপ্নকে থামাতে পারেনি। দারিদ্র্য, শারীরিক সীমাবদ্ধতা আর শত প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষার পথ ছাড়েননি কিশোরগঞ্জ সদরের রশিদাবাদ ইউনিয়নের সীমান্তপুর গ্রামের যুবক আনিসুর রহমান (৩০)। অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেও আজ পর্যন্ত একটি সরকারি চাকরি পাননি তিনি।
সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা শেষ হতে আর মাত্র ছয়-সাত মাস বাকি। তাই প্রতিটি দিন তার কাছে যেন নতুন এক উদ্বেগের নাম। ঝালমুড়ি বিক্রেতা বাবা ছিদ্দিক মিয়ার অতি দরিদ্র পরিবারে জন্ম আনিসের। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়ে তিনি চলন প্রতিবন্ধিতার শিকার হন। একইভাবে তার বোন আমেনা আক্তারও চলন প্রতিবন্ধী। তবে শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাদের শিক্ষাজীবন থামিয়ে দিতে পারেনি। আনিস অর্জন করেছেন অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি, আর তার বোন সম্পন্ন করেছেন বিএ। আনিসের মা স্বপ্ন দেখতেন—একদিন তার দুই সন্তান সরকারি চাকরি করে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই ২০২২ সালে তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। মায়ের সেই অপূর্ণ স্বপ্ন আজও বুকের ভেতর ধারণ করে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন আনিস। আনিস জানান, সরকারি চাকরির আশায় তিনি এখন পর্যন্ত ৩০০ থেকে ৪০০টিরও বেশি লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। কিন্তু ভাগ্যের চাকা ঘোরেনি। যোগ্যতা ও পরিশ্রম থাকা সত্ত্বেও কোনো সরকারি চাকরি তার ভাগ্যে জোটেনি। কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে আনিস বলেন, “আমি করুণা চাই না, চাই আমার যোগ্যতার মূল্যায়ন। আমার মায়ের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে একটি সরকারি চাকরি চাই। আর জীবনে একবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে আমার সংগ্রামের গল্প বলতে চাই।” আনিসের গল্প কেবল একজন প্রতিবন্ধী যুবকের ব্যক্তিগত সংগ্রামের গল্প নয়; এটি দেশের হাজারো শিক্ষিত প্রতিবন্ধী তরুণ-তরুণীর স্বপ্ন, বঞ্চনা, সংগ্রাম এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রতিচ্ছবি। এখন প্রশ্ন একটাই—যোগ্যতা ও অধ্যবসায়ের এই দীর্ঘ পথচলার শেষে কি আনিসের ভাগ্যে জুটবে একটি সরকারি চাকরি? প্রয়াত মায়ের সেই অপূর্ণ স্বপ্ন কি কোনোদিন পূরণ হবে? উত্তরটির অপেক্ষায় আনিস, তার পরিবার এবং মানবিক সমাজ।
What's Your Reaction?