মিরসরাইয়ে বিচারাধীন মামলার মধ্যেই চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ

Jul 9, 2026 - 19:20
 0  10
মিরসরাইয়ে বিচারাধীন মামলার মধ্যেই চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ

মিরসরাই,চট্টগ্রাম প্রতিনিধিঃ

চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার ১২ নং খৈয়াছড়া ইউনিয়নে আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় একটি চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়াল নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।

 এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। 

তবে অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, তারা বৈধভাবে ক্রয় করা জমির মালিক এবং দলিলের বৈধতা আদালতেই প্রমাণ করা হবে।

অভিযোগকারী মোহাম্মদ সেলিম, পূর্ব খৈয়াছড়া ভূঁইয়াপাড়া (৪ নম্বর ওয়ার্ড) এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। 

তিনি জানান, পূর্ব মঘাদিয়া মৌজার আরএস খতিয়ান নং ৩৪-এর আরএস দাগ নং ৯২৩৬, ৯২৩৮ ও ৯২৪০ এবং সংশ্লিষ্ট বিএস খতিয়ান নং ১৮৫৯-এর বিএস দাগ নং ৯৮৩৭, ৯৮৩৮ ও ৯৮৩৯-এর মোট ১৪ শতক জমির ওপর দীর্ঘদিন ধরে তাদের চলাচলের রাস্তা রয়েছে।

 তার অভিযোগ, প্রতিপক্ষ মোহাম্মদ রফিক, মোহাম্মদ তারেক, মোহাম্মদ তসলিম, মোহাম্মদ নবী ও মো. শাহাবুদ্দিনসহ অন্যরা জোরপূর্বক ওই রাস্তা বন্ধ করে সেখানে দেয়াল নির্মাণ করেছেন।

এ ঘটনায় মোহাম্মদ সেলিম বাদী হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৭ ধারায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, চট্টগ্রাম উত্তর আদালতে মামলা করেন।

যার  মামলার নাম্বার ৫৫৬/২০২৬ এবং দায়েরের তারিখ ১৪ জুন ২০২৬।

বাদীপক্ষের দাবি, আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তদন্তের জন্য মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন এবং চলাচলের রাস্তা বাধামুক্ত করার বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দিয়েছেন।

অন্যদিকে বিবাদীপক্ষের দাবি, তারা ১৯৭৭ সালের ২৭ এপ্রিল নিবন্ধিত ২২৩৩ নম্বর কবলা দলিলের মাধ্যমে জমিটি বৈধভাবে ক্রয় করেছেন।

 তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নূর মোহাম্মদ, সিরাজুল হক, জালাল আহমদ, ফয়েজ আহমদ, আজব খাতুন, বাগিচা খাতুন, বামজা খাতুন ও সকিনা খাতুনসহ উত্তরাধিকারীরা ১০ দশমিক ৫০ শতক জমি বিক্রি করেন। 

ওই জমির মধ্যে আরএস দাগ নং ৯২৪০ এবং সংশ্লিষ্ট বিএস দাগ নং ৯৮৩৭ ও ৯৮৩৮ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাদের দাবি, জমির মালিকানা তাদের বৈধ দলিলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত।

তবে বাদী মোহাম্মদ সেলিম দাবি করেন, প্রতিপক্ষ যে দলিলের ভিত্তিতে মালিকানা দাবি করছে সেটি জাল।

 এ বিষয়ে প্রতিপক্ষদের কাছে  জানতে চাইলে প্রতিপক্ষ গণ জানায়, দলিল জাল কি না, সেটি আদালতেই প্রমাণিত হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আহমেদুর রহমান, মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন ও আলাউদ্দিন অভিযোগ করেন, চলাচলের পথ ও জমি দখল করে দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে।

 তাদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

এ বিষয়ে মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আদালতের নির্দেশনা তারা পেয়েছেন।

 আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জমির মালিকানা, দলিলের বৈধতা এবং চলাচলের রাস্তার অধিকার—এসব বিষয় বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

 ফলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow