জমি দখলের অপচেষ্টা, জনতার ক্ষোভে এলাকা ছাড়লেন আ.লীগ নেতা ইমতিয়াজ জুবায়েদ ঢালী
জামালপুর শহরের সাহাপুর জামতলা এলাকায় এক নারীর জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয়দের তীব্র প্রতিরোধ ও গণরোষের মুখে পিছু হটেছেন আওয়ামী লীগের এক নেতা। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন সহযোগীকেও এলাকা ছাড়তে হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংবাদকর্মীদের হস্তক্ষেপে বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে সাহাপুর জামতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের পিঙ্গলহাটি গ্রামের রিপন মিয়া মুক্তা খাতুনের জমির পাশের একটি বিতর্কিত জায়গা ক্রয় করেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে রিপনের পক্ষ নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরাম জামালপুর সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ জুবায়েদ ঢালী দলবল নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং মুক্তা খাতুনের প্রায় দুই শতাংশ জমি দখলের চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের দাবি, শুরুতে কয়েকজন মুরুব্বী ও তরুণ তাঁর সঙ্গে থাকলেও ঘটনার প্রকৃত অবস্থা জানতে পেরে অনেকেই সরে দাঁড়ান এবং দখলচেষ্টার প্রতিবাদ জানান। খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকা থেকে শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে অভিযুক্তদের ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে স্থানীয় মুরুব্বী ও সংবাদকর্মীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে অভিযুক্ত নেতা ও তাঁর সহযোগীরা এলাকা ত্যাগ করেন। দাপুনিয়া এলাকার বাসিন্দা হামিদুর রহমান দিদার বলেন, "দলবল নিয়ে দিনের বেলায় একজন নারীর জমি দখলের চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একজন সরকারি চাকরিজীবী হয়ে তিনি কীভাবে এমন ঘটনায় জড়ান, সেটিও প্রশ্নের বিষয়।" শাহাপুর এলাকার তোফাজ্জল হোসেন বলেন, "পরিস্থিতি খুবই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল। আমরা এলাকাবাসীকে শান্ত রাখার চেষ্টা করেছি। অন্যায়ভাবে জমি দখলের এই চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।" সমাজসেবক মিনহাজ রাজন বলেন, ঘটনার বাস্তবতা বুঝতে পেরে কয়েকজন মুরুব্বী ও তরুণ অভিযুক্ত নেতার পক্ষ ত্যাগ করেন এবং পরে এলাকাবাসী তাঁদের সম্মান জানান। ভুক্তভোগী মুক্তা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁর জমি দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইমতিয়াজ জুবায়েদ ঢালী একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির পাশাপাশি আওয়ামী সাংস্কৃতিক ফোরামের দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁদের দাবি, অতীতের বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকলেও এখনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান স্থানীয়রা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইমতিয়াজ জুবায়েদ ঢালীর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি।। জামালপুর। ০৪-০৭-২০২৬
What's Your Reaction?