মাদকরোধে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন ; সাংবাদিক সোয়েব সিকদার
প্রতি বছরের মতো ২৬ জুন বিশ্বব্যাপী পালিত হয়েছে “মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস”। জাতিসংঘ ১৯৮৭ সালে এই দিবস চালু করে, যার মূল উদ্দেশ্য মাদকের অপব্যবহার, অবৈধ পাচার এবং এর সামাজিক-অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করা।
এবারের আয়োজনে আন্তর্জাতিক মহলে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে—প্রতিরোধ, জনসচেতনতা, চিকিৎসা সহায়তা এবং সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনের বিষয়গুলো।
জাতিসংঘের মহাসচিব তার দিবস উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় বলেন, অবৈধ মাদক ব্যবসা কেবল আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়; এটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি তৈরি করে এবং সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতাকে উসকে দেয়।
এদিকে ২০২৬ সালের বিশ্ব মাদক পরিস্থিতি প্রতিবেদনে United Nations Office on Drugs and Crime জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে কোকেন ও মেথঅ্যামফেটামিনের অবৈধ বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে নতুন ধরনের সিনথেটিক মাদকের বিস্তার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
★বিভিন্ন দেশের পরিস্থিতি
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল এখন মাদকসংক্রান্ত ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
* উত্তর আমেরিকায় সিনথেটিক ওপিওয়েড নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
* ইউরোপে নতুন ধরনের শক্তিশালী রাসায়নিক মাদকের ব্যবহার বাড়ছে।
* লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ অবৈধ উৎপাদন ও পাচার চক্র নিয়ন্ত্রণে সীমান্ত নজরদারি জোরদার করেছে।
* দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সীমান্তভিত্তিক পাচার এবং তরুণদের মধ্যে মাদক প্রবণতা নিয়ে নতুন করে কাজ শুরু হয়েছে।
★বাংলাদেশের অবস্থান
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তকেন্দ্রিক মাদক পাচার, বিশেষ করে ইয়াবা ও অন্যান্য অবৈধ মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে। পাশাপাশি সচেতনতা, পরিবারভিত্তিক নজরদারি এবং তরুণদের বিকল্প ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও জনসচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম বাড়ানোর পরামর্শ দিয়ে আসছে।
★আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতামত
United Nations এবং United Nations Office on Drugs and Crime মনে করে, শুধুমাত্র শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়—প্রতিরোধ, চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি একসঙ্গে কাজ করলেই টেকসই পরিবর্তন সম্ভব।
★সমাজকর্মীদের মন্তব্য
সমাজকর্মী শারমিন আক্তার বলেন,
“মাদকবিরোধী লড়াই শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সম্ভব নয়। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরও সক্রিয় হতে হবে।”
তরুণ উন্নয়নকর্মী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন,
“যুবকদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমে যুক্ত করা গেলে মাদকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।”
★সাংবাদিকদের মন্তব্য
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রাশেদুল করিম বলেন,
“মাদক ইস্যুতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন। শুধু অভিযানের খবর নয়, এর সামাজিক প্রভাবও সামনে আনতে হবে।”
সমাজকর্মী ও সাংবাদিক সোয়েব সিকদার বলেন, প্রথমত,মাদকরোধে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন। মাদকদের যত বড়বড় ডিলার রয়েছে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে।পাশাপাশি কিছু আইন সংশোধন করতে হবে। এলাকায় তরুন প্রজন্মের মাদকদের ভয়াবহতা তুলে ধরতে হবে। গণসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
সাংবাদিক সাবিহা রহমান বলেন,
“ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তরুণদের জন্য সচেতনতামূলক কনটেন্ট বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, কার্যকর নীতি, সচেতন পরিবার এবং তরুণদের ইতিবাচক সম্পৃক্ততার বিকল্প নেই।
What's Your Reaction?