কাব্যকথা’র মঞ্চ থেকে জাতীয় জয়, ক্ষুদে আবৃত্তিকার আদিলায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী
প্রতিভা, অধ্যবসায় আর নিরলস চর্চার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা–২০২৬-এর সাংস্কৃতিক বিভাগে আবৃত্তিতে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে জামালপুর সদর উপজেলার শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া জান্নাত আদিলা। তার এই অসাধারণ অর্জনে গর্বিত পুরো জামালপুরবাসী, আনন্দে উদ্বেল শিক্ষা পরিবার ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর আয়োজিত দেশের অন্যতম বৃহৎ শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতা জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতা–২০২৬-এ লাখো শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা অতিক্রম করে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে মারিয়া। সোমবার (১৬ জুন) অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় তার সাবলীল, প্রাণবন্ত ও আবেগঘন আবৃত্তি বিচারকদের মুগ্ধ করে। প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণার পরই প্রশংসায় ভাসতে থাকে ক্ষুদে এই আবৃত্তিশিল্পী। জানা গেছে, জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছাতে মারিয়াকে দীর্ঘ প্রতিযোগিতামূলক পথ অতিক্রম করতে হয়েছে। প্রথমে ক্লাস্টার পর্যায়, এরপর ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে একের পর এক প্রতিযোগিতায় সেরা হয়ে জাতীয় মঞ্চে জায়গা করে নেয় সে। প্রতিটি ধাপেই নিজের মেধা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চূড়ান্ত পর্বে প্রথম স্থান অর্জন করে জামালপুরের মুখ উজ্জ্বল করেছে মারিয়া জান্নাত আদিলা। রাজধানীতে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বিজয়ীদের হাতে মেডেল তুলে দেন এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানান। এসময় উপস্থিত অতিথিরা মারিয়ার আবৃত্তি দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই আবৃত্তির প্রতি মারিয়ার গভীর আগ্রহ ছিল। প্রথম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় থেকেই সে আবৃত্তি চর্চা শুরু করে। বর্তমানে সে কাব্যকথা আবৃত্তি একাডেমি-তে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। তার পরিবার, বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং প্রশিক্ষকদের নিবিড় সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণায় এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। আদিলার এ অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে কবি ও আবৃত্তি প্রশিক্ষক এম আর আই রাসেল বলেন, “মারিয়া জান্নাত আদিলা অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী একজন শিক্ষার্থী। ছোটবেলা থেকেই তার কণ্ঠে স্পষ্টতা, অনুভূতি প্রকাশের ক্ষমতা এবং শেখার আগ্রহ ছিল অসাধারণ। নিয়মিত অনুশীলন, পরিবারের সহযোগিতা ও তার নিজের আন্তরিক চেষ্টার ফলেই আজ জাতীয় পর্যায়ে প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। আমি বিশ্বাস করি, সঠিক পরিচর্যা পেলে একদিন সে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।” তিনি আরও বলেন, “এই অর্জন শুধু আদিলার নয়, এটি জামালপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনেরও অর্জন। তার সাফল্য নতুন প্রজন্মকে আবৃত্তি ও সংস্কৃতি চর্চায় অনুপ্রাণিত করবে।” আদিলার এই সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেছে শ্রীরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা। তাদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশ ও জেলার জন্য আরও সম্মান বয়ে আনবে ক্ষুদে আবৃত্তিকার মারিয়া জান্নাত আদিলা। মেহেদী হাসান জামালপুর। ১৬-০৬-২০২৬
What's Your Reaction?