ভোলায় আশঙ্কাজনক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করাই কি ছিল ডা. আখি আক্তারের অপরাধ?
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি:
সাম্প্রতিক ভোলার চরফ্যাশনে এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. আখি আক্তারের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা অভিযোগ ও সমালোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। তবে স্থানীয় একাধিক সূত্র ও সচেতন মহল বলছে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে একটি কুচক্রী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র ডা. আখি আক্তারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে তাকে জনমনে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
জানা গেছে, চরফ্যাশন উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা প্রসূতি জান্নাত এর প্রসব ব্যথা উঠলে চরফ্যাশনের ইকরা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. আখি আক্তার রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। বিভিন্ন ভাষ্যমতে জানা যায়, রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল নেওয়ার পরামর্শ দেন।
চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট মহল বলছে, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সব ধরনের জটিল প্রসূতি সেবার ব্যবস্থা থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে রোগীর জীবন রক্ষার্থে চিকিৎসকরা দ্রুত বড় হাসপাতালে রেফার করেন। এটি চিকিৎসা ব্যবস্থার একটি স্বাভাবিক ও দায়িত্বশীল অংশ।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন চিকিৎসক যদি রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন দেখে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠান, তাহলে সেটিই কি তার অপরাধ? বরং সময়ক্ষেপণ না করে দ্রুত রেফার করাই একজন দায়িত্বশীল চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে মত দিয়েছেন অনেকে।
এলাকাবাসীর একটি অংশের দাবি, যদি রোগীকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রেখে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে বিলম্ব করা হতো, তাহলে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ আরও জোরালো হতে পারত। কিন্তু রোগীর অবস্থা গুরুতর বুঝে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানোর পরও একতরফাভাবে তাকে দায়ী করা কতটা যৌক্তিক—সে প্রশ্নও তুলছেন তারা।
এদিকে ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরনের বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত কোনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়নি। সচেতন মহল বলছে, একটি মৃত্যুর ঘটনায় আবেগ কাজ করাটা স্বাভাবিক হলেও প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।
তারা আরও বলেন, প্রমাণ ছাড়া কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো শুধু অন্যায়ই নয়, এতে চিকিৎসা সেবার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই তদন্তের আগেই কাউকে দোষী বা নির্দোষ ঘোষণা না করে প্রশাসনের নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের অপেক্ষা করা উচিত।
What's Your Reaction?