কালকিনিতে পানের বরজ দখলের চেষ্টাসহ ফসল নষ্ট করার অভিযোগ
মাদারীপুর প্রতিনিধি
মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার পাতাবালি গ্রামের আঃ হাকিম হাওলাদারের পানের বরজ ও জমি জোরপূর্বক দখলের
চেষ্টাসহ ফসল নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাঁধা দিলে প্রভাবশালীরা
জমির মালিক ও স্বজনদের মারধোর ও প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। আজ বুধবার দুপুরে এ অভিযোগ করে ভুক্তভোগী পরিবরি। এ ব্যাপারে জমির মালিক আঃ হাকিম হাওলাদার বিভিন্ন অফিস ও আদ্লতের দ্বারে দ্বারে ঘুরে সর্বশেষ দোষিদের বিচার দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন। যানাযায়, কালকিনি পৌরসভার পাতাবালি গ্রামের আঃ হাকিম হাওলাদারের ছোট ভাই তাদের নিজ জমিতে পান চাষ ও কলা চাষ করে একজন স্বফল চাষি হিসেবে নিজেকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলেন। কিন্তু একই এলাকার জালাল হাওলাদার, লুৎফর হাওলাদার, বাবুল হাওলাদার, আশিক হাওলাদার ও জাকির হাওলাদারসহ অন্যান্যরা আমাদের পানের বরজ ও জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে এবং এ সময় ২২ শতাংশ জমির পান ও কলা গাছ সম্পূর্ণ কেটে ফেলে এতে করে প্রায় ৪লাখ টাকার ক্ষতি করে। আবেদন সুত্রে যানাযায়, নিম্ন তফশিল বর্ণিত অর্পিত সম্পতি 'ক' তালিকায় ১০০/৭৫-৭৬ নং কেসভূক্ত ছিল। উক্ত অর্পিত তালিকার বিরুদ্ধে ৩৮০/১২ মামলা করিয়া অবমুক্তি প্রাপ্ত হইলে পরবর্তীতে সরকার পক্ষ আমার বিরুদ্ধে অর্পিত আপিল ২৯/১৪ দায়ের করলে বিজ্ঞ জেলা জজ মাদারীপুর মহোদয় উক্ত আপিলে অবমুক্তির আদেশ বহাল রাখেন। পরবর্তীতে বিজ্ঞ জেলা জজ মহোদয়ের আদেশের কপি দ্বারা জেলা প্রশাসক, মাদারীপুর মহোদয়ের নির্দেশক্রমে এস.এ নামপত্তন ও বি.আর. এস নামপত্তন প্রাপ্ত হই। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশক্রমে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যাপন আইনের ১১ ধারা বাস্তবায়নের মাধ্যমে, সহকারী কমিশনার (ভূমি), কালকিনি, মাদারীপুর। বিগত ৪/৭/২০১৯ ইং তারিখ পুলিশ প্রশাসনসহ সরেজমিনে গিয়ে চারপাশে লাল নিশান স্থাপন পূর্বক লিজিদের ও উপস্থিত স্বাক্ষীদের উপস্থিতিতে নিম্ন তপশিল বর্ণিত সম্পত্তির দখল বুঝাইয়া দেন। সেই হইতে অদ্য পর্যন্ত পান বরজ ও কলা চাষ করিয়া ভোগ দখলে আছি। স্বারাষ্ট্র উপদেষ্ঠার বরাবর আবেদন দাখিল করা হলে আবেদনের প্রেক্ষিতে আইজিবি কার্যালয় হইতে, স্মারক নং-৮২৬২, তারিখ: ২২/১২/২০২৫ইং এবং এডিশনাল ডিআইজি (ক্রাইম রেঞ্চ) স্মারক নং- ১৫, তারিখ: ০১/০১/২০২৬ইং পুলিশ সুপার মাদারীপুরকে আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরন করেন। বিগত ১২/০১/২০২৬ ইং তারিখে অফিসার ইনচার্জ কালকিনিকে উক্ত আদেশ প্রেরণ করেন। অদ্য পর্যন্ত ৪ মাস অতিবাহিত হওয়া সত্বেও থানা প্রশাসন কোন প্রকার আইনানুক ব্যবস্থা গ্রহণ বা ফসল রক্ষা করার কোন কার্যক্রমই করেন নি। তার দ্বারা প্রতিকারের কোন আশা করতে পারছি না। ফসল রক্ষা করাসহ সন্ত্রাসীদের অত্যাচার হইতে রক্ষা পাওয়ার জন্য মহোদয়ের স্মরনাপন্ন হইতে বাধ্য হয়েছি। আঃ হাকিম হাওলাদার বলেন, আমার ছোট ভাই পান চাষের জমিতে গেলে ওরা আমার ভাইকে খুন যখম করার জন্য আক্রমন করে এবং তাকে মারাক্তক যখম করে কালকিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। বর্তমানে প্রাণের ভয়ে আমার ভাই পান, কলাসহ কোন প্রকার চাষাবাদ করতে জমিতে যেতে পারছে না। অভিযোগের বিষয়ে জানতে জালাল হাওলাদারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
কালকিনি থানা অফিসার ইনচর্জ জহিরুল আলম জানান, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।
What's Your Reaction?