কবিরাজির ফাঁদে প্রতারণা: সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকারসহ লাখো টাকা উদ্ধার, মূলহোতা মনির সহ গ্রেফতার ৩
কবিরাজির নামে অভিনব কৌশলে ভয়ংকর প্রতারণার জাল বিস্তার করে একটি চক্র। অবশেষে সেই চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ উদ্ধার করেছে পিবিআই, জামালপুর।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—চক্রের মূলহোতা মোঃ মনির হোসেন (২১), তার সহযোগী মোঃ মুছা মিয়া (২৯) এবং মোঃ রফিকুল ইসলাম (২৮)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, শেরপুর সদর থানায় দায়ের করা একটি মামলার তদন্তে নেমে পিবিআই এই চাঞ্চল্যকর প্রতারণার রহস্য উদঘাটন করে। ভুক্তভোগী শেরপুরের এক কাপড় ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, তার অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া কন্যাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে ফাঁদে ফেলে প্রতারকরা।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, ‘কবিরাজ’ পরিচয়ে প্রতারকরা ইমু ও টিকটক ব্যবহার করে কিশোরীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। বাবা-মায়ের ভালোবাসা পাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় ‘কবিরাজি খরচ’ বাবদ বিকাশের মাধ্যমে ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৫০ টাকা হাতিয়ে নেয় তারা।
পরবর্তীতে ঝাড়ফুঁকের কথা বলে কৌশলে সাড়ে ২৭ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ১ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয় চক্রটি।
পিবিআইয়ের বিশেষ অভিযানে গত ৯ এপ্রিল গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকা থেকে মুছা মিয়া ও রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ১৫ এপ্রিল ময়মনসিংহ থেকে মূলহোতা মনির হোসেনকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয় প্রায় ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার, যার আনুমানিক মূল্য ৬৪ লাখ টাকা।
তদন্তে আরও জানা যায়, চক্রটি ‘কবিরাজ’ ও ‘আল্লাহর দান’ নামে একাধিক ইমু অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাধারণ মানুষকে টার্গেট করত। ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তারা নিয়মিত অর্থ হাতিয়ে নিত।
পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত সময়ের মধ্যে এই প্রতারণার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। তিনি সবাইকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন বা প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো লেনদেন না করার আহ্বান জানান।
গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মেহেদী হাসান
জামালপুর।
১৬-০৪-২০২৬
What's Your Reaction?