মহিপুরে ইফতার বিতরণকে কেন্দ্র করে বিরোধ, যুবদল নেতার নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ

Mar 16, 2026 - 21:33
 0  13
মহিপুরে ইফতার বিতরণকে কেন্দ্র করে বিরোধ, যুবদল নেতার নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ

মহিপুর (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর মহিপুরে ইফতার বিতরণকে কেন্দ্র করে বিরোধের ঘটনায় যুবদল নেতা মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে হামলা, ভাঙচুর, শ্লীলতাহানি ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। রোববার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদে ইফতার বিতরণকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মহিপুর থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয় ও এজহার সূত্রে জানা গেছে, মিরপুর বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদে ইফতার বিতরণকে কেন্দ্র করে ঘটনার শুরু। মিরপুর গ্রামের রুহুল আমিন ফকিরের নাতি রুমানকে (১৩) তুচ্ছ কারণে থাপ্পড় মারেন একই গ্রামের মো. ওয়ারেছ পহলান। এর প্রতিবাদ করায় রুমানের দাদা রুহুল আমিন ও বৃদ্ধ প্রপিতামহ (রুমানের দাদার বাবা) সত্তোরোর্ধ্ব বৃদ্ধ হায়দার আলী ফকিরের উপর ক্ষিপ্ত হন ওয়ারেছ পহলান ও তার ছেলে রুবেল পহলান, সোহেল পহলান, আলাউদ্দিন পহলান। মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্তরা তা অমান্য করেন। এমনকি ইফতার না করেই রুহুল আমিন, হায়দার আলী ফকির ও রুমানকে মসজিদ থেকে বের হতে বাধ্য করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ওয়ারেছ পহলান ও তার ছেলে রুবেল পহলান, সোহেল পহলান, আলাউদ্দিন পহলান, জাকির পহলান ও তার ছেলে মিরাজ পহলানসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রুহুল আমিনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার বাবা বৃদ্ধ হায়দার আলী ফকিরকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এ ছাড়া তার স্ত্রী ময়না বেগমকে টানা-হেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে। এছাড়া তার মা কমেলা বেগম ও বড় পুত্রবধূ রিয়া ও ছোট পুত্রবধূ সেলিনাকেও মারধর করা হয় এবং মসজিদ কমিটির সভাপতি আবুবকর সিদ্দিক মীর এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। এসময় হামলাকারীরা ঘরের দরজা-জানালা ভাঙচুর করে এবং ট্রাংক ভেঙে নগদ ৪০ হাজার টাকাসহ স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল লুটে নেয়। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ও পরে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ৮০ বছর বয়সী হায়দার আলী ফকিরকে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আহত রুহুল আমিন ফকির বলেন, ‘জাকির হোসেনের নেতৃত্বে তারা আমার ঘরে ঢুকে তছনছ শুরু করে। আমার বৃদ্ধ বাবা হায়দার ফকিরকে দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও এলোপাতাড়ি পেটানো হয়।’ রুহুল আমিনের স্ত্রী ময়না বেগম অভিযোগ করেন, ‘হামলাকারীরা আমাকে টেনে-হিঁচড়ে শ্লীলতাহানি করেছে এবং আমার কানের প্রায় ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নিয়েছে। এছাড়া আমার শাশুড়ি ও পুত্রবধূদেরও মারধর করা হয়েছে।’ মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. আবুবকর সিদ্দিক মীর বলেন, ‘আমরা শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করেছিলাম, হামলাকারীরা আমাদের কোনো কথা শোনেনি। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি জাকির হোসেন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা বলে দাবি করেন। তবে অভিযুক্ত ওয়ারেছ পহলানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মহিপুর থানা যুবদলের সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জেনেছি। আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাব্বত খান জানান, ‘এ ঘটনায় একটি এজাহার পেয়েছি। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow