নদী ও চর দখলের অভিযোগ” শিরোনাম বিভ্রান্তিকর; রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার রেজাউল করিম খন্দকার

Jul 6, 2026 - 14:18
 0  14
নদী ও চর দখলের অভিযোগ” শিরোনাম বিভ্রান্তিকর; রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার রেজাউল করিম খন্দকার

তৈয়্যবুর রহমান তুহিন ভোলা প্রতিনিধি।
সম্প্রতি জাতীয় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় “বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে নদী ও চর দখলের অভিযোগ” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংবাদ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শিরোনামে নদী ও চর দখলের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হলেও মূল প্রতিবেদনের কোথাও নদী বা চর দখলের বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য, সরকারি নথি, মামলা, তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা প্রশাসনিক বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়নি।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, সংবাদটির শিরোনাম ও মূল প্রতিবেদনের মধ্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি রয়েছে। ফলে পাঠকদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং একজন ব্যক্তির সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দক্ষিণ আইচা থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও ঢাকা সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়ার প্রভাষক রেজাউল করিম খন্দকার দাবি করেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে একটি রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি স্বার্থান্বেষী মহল রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে।

রেজাউল করিম খন্দকার বলেন, “সংবাদে যে শিরোনাম দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গে প্রতিবেদনের কোনো মিল নেই। যদি আমি সত্যিই নদী বা চর দখল করে থাকি, তাহলে কোথায় সেই জমির খতিয়ান, কোথায় প্রশাসনের প্রতিবেদন, কোথায় আদালতের রায়? কোনো প্রমাণ ছাড়া এমন শিরোনাম দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা দুঃখজনক।

তিনি আরও বলেন, “আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহু প্রতিকূলতার মধ্যেও আমি মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বর্তমানে একটি মহল আমার রাজনৈতিক অবস্থান ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করার জন্য অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে। জনগণ এসব ষড়যন্ত্রের প্রকৃত উদ্দেশ্য বুঝতে পারছেন।”

স্থানীয় কয়েকজন প্রবীণ রাজনৈতিক কর্মী ও বাসিন্দা জানান, রেজাউল করিম খন্দকার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় শিক্ষা, ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের দাবি, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তদন্ত ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা উচিত। শুধুমাত্র অভিযোগের ভাষ্যকে শিরোনাম করে প্রচার করা হলে তা ন্যায়সংগত সাংবাদিকতার পরিপন্থী হয়ে দাঁড়ায়।

সচেতন নাগরিকদের মতে, সংবাদে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের যথার্থতা, প্রমাণের উপস্থিতি এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্যকে সমান গুরুত্ব দেওয়ারও আহ্বান জানান তারা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে অনেক সময় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা দেখা যায়। ফলে কোনো অভিযোগকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার আগে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান ও প্রমাণ যাচাই অপরিহার্য।

এদিকে রেজাউল করিম খন্দকার জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদে যদি কোনো অসত্য, বিভ্রান্তিকর বা মানহানিকর তথ্য থেকে থাকে, তবে তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অধিকার সংরক্ষণ করেন। একই সঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের ঊর্ধ্বে উঠে সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে এবং প্রকৃত তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow