কুলিয়ারচর ইউপি সদস্যের প্রতিহিংসা চরমে, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রবাসীর বাড়ী ভাঙচুর
সারওয়ারশাহ, কিশোরগন্জপ্রতিনিধি ।
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার রামদী ইউনিয়নে দেওয়ানী আদালতের স্থিতাবস্থা আদেশ অমান্য করে এক প্রবাসী পরিবারের বসতভিটা ভেকু দিয়ে ভেংগে দিয়েছে ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মঈনউদ্দীন এবং তার সহযোগী রামদী ইউনিয়ন ৮নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা উজ্জল ও হারুন মিয়া।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ,পিআইও অফিসের আওতাধীন কাবিটা প্রকল্পের একটি রাস্তা নির্মাণের অজুহাতে আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে প্রবাসী জিল্লুর রহমানের বসতঘর, রান্নাঘর, গাছপালা ও কৃষিজমি জোরপূর্বক ভেকু দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনার পরও ভাঙচুর এ ঘটনায় কুলিয়ারচর সিভিল জজ আদালত (বাজিতপুর চৌকি) কর্তৃক ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারী প্রদও
আদেশে বলা হয়-মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নালিশী ভূমিতে কোনো প্রকার নির্মাণ, ভাঙচুর, গাছ কর্তন বা দখল পরিবর্তন করা যাবে না।কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব দেখাতে এই আদেশ জারির পরও ভেকু দিয়ে বসতভিটা ভাঙচুর চালানো আদালত অবমাননার শামিল।
প্রবাসী পরিবারের আর্তনাদ সাইপ্রাস প্রবাসী জিল্লুর রহমানের স্ত্রী জানান,“আমার স্বামী ও দুই পুত্র সাইপ্রাসে প্রবাস জীবন করছে বাড়িতে কোনো পুরুষ নেই । আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও আমাদের ঘরবাড়ি ভেকু দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আমরা কোথায় যাবো?”
জিল্লুর রহমানের পুত্র সাইপ্রাস প্রবাসী সাদ্দাম হোসেন বলেন, “আমাদের জায়গা আমরা বৈধভাবে ভোগদখলে রেখেছি। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে মেম্বার মঈনউদ্দীন কোনো অনুমতি ছাড়াই গাছ কেটে, ঘর ভেঙে দিয়েছে। আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
বাদীপক্ষের দাবি অনুযায়ী, পুর্বের ১৭৯ দাগে এবং নতুন রেকর্ডীয় দাগ ২০১৫ দাগে সিএস আরও এসএ ও আরএস রেকর্ডে তাদের পৈতৃক মালিকানা প্রমাণিত এবং পুর্বের ৩১ ধারা মামলাতে আমরা রায় পেয়েছি।
রামদী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন সম্ভাব্য ১৯৯৬ কিংবা ১৯৯৭ সালে একই দাগে এলাকাবাসীর দাবীর মূখে আমাদের বাড়ির পূর্ব প্বার্শে জনস্বার্থে ২ শতাংশ জমি মৌখিকভাবে রাস্তার জন্য দেওয়া হয়েছিল। এখন একই দাগে দ্বিতীয়বার রাস্তা নির্মাণ করলে বসতভিটা বিলীন হয়ে যাবে, যা আইনসিদ্ধ নয়।
স্থানীয় কৃষকরাও অভিযোগ করেছেন, ভেকু দিয়ে মাটি কাটার ফলে তাদের কলা ক্ষেত ও কৃষিজমি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য মো. মঈনউদ্দীন বলেন,“ওই জায়গাটি সরকারি হালট রাস্তা। তারা দখল করে বাড়ি বানিয়েছে। জনস্বার্থে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। আমি এ কারণে একাধিক মামলার মুখে পড়েছি।”
রামদী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও কুলিয়ারচর উপজেলা সমবায় অফিসার শহিদুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নুরুন্নবী জানান, “অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ইয়াসিন খন্দকার বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
What's Your Reaction?