মানুষের ঠিকানা খুঁজে দেয়া ঘর, আজ নিজেই ঠিকানাহীন

Jun 11, 2026 - 20:17
 0  11
মানুষের ঠিকানা খুঁজে দেয়া ঘর, আজ নিজেই ঠিকানাহীন

নূর আলম, গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি :

একসময় এলাকার মানুষের যোগাযোগ, চিঠিপত্র আদান-প্রদান ও সরকারি সেবার অন্যতম ভরসাস্থল ছিল মোহনপুর ডাকঘর। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, মানুষের ঠিকানা খুঁজে চিঠি পৌঁছে দেওয়া এই প্রতিষ্ঠানটিই আজ নিজস্ব ঠিকানা হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব ভবন ও স্থায়ী জায়গার অভাবে মোহনপুর ডাকঘরের কার্যক্রম চলছে অস্থায়ীভাবে এক কর্মকর্তার বাড়িতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোহনপুর বাজারে মির্জাপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস সংলগ্ন স্থানে একসময় ডাকঘরটির নিজস্ব ভবন ছিল। ভবনটি জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়লে সেটি ভেঙে ফেলা হয়। পরে সেখানে নতুন করে ডাকঘর ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা জটিলতায় তা আর সম্ভব হয়নি। বর্তমানে ওই স্থানে নতুন ইউনিয়ন ভূমি অফিস ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে মোহনপুর ডাকঘরের আর কোনো দৃশ্যমান অস্তিত্ব বাজার এলাকায় নেই।

ডাক বিভাগের কর্মচারী আনোয়ার হোসেন জানান, ডাকঘরের জন্য নতুন জায়গা বরাদ্দের দাবিতে তিনি একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। বিভিন্ন সময়ে আশ্বাস পেলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, মোহনপুর বাজারে ডাকঘরটি দীর্ঘদিন ধরে ছিল এবং এলাকাবাসী এর সেবা গ্রহণ করতেন। ভবনটি ভেঙে যাওয়ার পর নতুন ভবন নির্মাণে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় আজ ডাকঘরটি কার্যত এলাকা থেকে হারিয়ে গেছে। ফলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, পার্সেল ও ডাকসংক্রান্ত সেবা নিতে সাধারণ মানুষকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় হচ্ছে।

স্থানীয় সংবাদকর্মী বিধান রায় , বলেন“মোহনপুর বাজারে ডাকঘর না থাকায় আমাদের নানা ধরনের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সরকারি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও আমরা এখন উল্টো দূরে গিয়ে সেবা নিতে বাধ্য হচ্ছি।”

আরেক বাসিন্দা প্রার্থ সরকার  বলেন, “বাজার এলাকায় সরকারি খাসজমি রয়েছে। প্রয়োজনে সেখানে অথবা আগের জায়গায় ডাকঘরটি পুনঃস্থাপন করা হলে এলাকাবাসী উপকৃত হবে।”

মোহনপুর ডাকঘরের পোস্টমাস্টার মন্টু মিয়া জানান, আগে ডাকঘরটি মোহনপুর বাজারে ভূমি অফিসের পাশেই ছিল। ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ভেঙে যাওয়ার পর সেখানে নতুন ভবন নির্মাণের অনুমতি পাওয়া যায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে তিনি নিজ বাড়িতে ডাকঘরের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

পোস্টমাস্টার মন্টু মিয়া বলেন, “স্থায়ী ভবন না থাকায় সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই সেবা কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। একটি স্থায়ী ভবন ও জায়গা বরাদ্দ হলে সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে।”

বর্তমানে মোহনপুর ডাকঘরের কার্যক্রম পার্শ্ববর্তী ঘাটাইল উপজেলার নরজনা গ্রামের এক কর্মকর্তার বাড়িতে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে মোহনপুর বাজার এলাকায় ডাকঘরের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করে নতুন ভবন নির্মাণ করা হোক। অন্যথায় ঐতিহ্যবাহী এই সরকারি প্রতিষ্ঠানটি একসময় পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow