বিষাক্ত ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, প্রশ্নের মুখে কথিত সিসা কারখানার কার্যক্রম, পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী এলাকায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ, তদন্ত দাবি স্থানীয়দের

May 13, 2026 - 10:54
 0  22
বিষাক্ত ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, প্রশ্নের মুখে কথিত সিসা কারখানার কার্যক্রম, পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী এলাকায় পরিবেশ দূষণের অভিযোগ, তদন্ত দাবি স্থানীয়দের

শাহ সারওয়ার, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া-কটিয়াদী এলাকার একটি কথিত সিসা/ব্যাটারি প্রক্রিয়াজাত কারখানাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, কারখানাটির চিমনি থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া আশপাশের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক বছর আগে “কে.জি এন্টারপ্রাইজ” নামের একটি কারখানা এলাকায় কার্যক্রম শুরু করে। স্থানীয়দের দাবি, এখানে পুরাতন ব্যাটারি পোড়ানো ও সিসা (Lead) প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সরেজমিনে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মাঝখানে টিনশেড কাঠামোর বড় একটি শিল্প স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।

সেখানে রয়েছে উঁচু চিমনি ও শিল্পকারখানার বিভিন্ন অবকাঠামো। রাতে কারখানাটিতে আলোকসজ্জা ও কার্যক্রমের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, চিমনি থেকে নির্গত ধোঁয়ার কারণে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, কাশি, চোখ জ্বালাপোড়া ও মাথাব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরাও আশঙ্কা করছেন, বিষাক্ত ধোঁয়া ও বর্জ্যের কারণে ফসলি জমি ও জলাশয় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বলেন, “রাতে ও ভোরে বেশি ধোঁয়া বের হয়। গন্ধে ঘরে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়ে। আমরা সন্তানদের স্বাস্থ্য নিয়ে আতঙ্কে আছি।”আরেক কৃষক বলেন,"আমরা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। যদি জমি ও পানি দূষিত হয়, তাহলে আমাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।” স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, সিসা প্রক্রিয়াজাতকরণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ শিল্প কার্যক্রম। যথাযথ পরিবেশগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া এ ধরনের কারখানা পরিচালিত হলে তা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর-এর সংশ্লিষ্ট জেলা কর্মকর্তার সংগে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন প্রতিষ্ঠান টি ২৫/০৯/২০২৫ খ্রীঃকটিয়াদী উপজেলার  মধ্যপাড়া ও বানিয়াগ্রামের মাঝামাঝি তে অবস্হিত। ব্যাক্তিগত কাজে ঢাকায়  করায় তাৎক্ষণিক বিস্তারিত  বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবির বিষয়টি অবগত আছেন এবং তিনি ০৭/০৫/২০২৬ ইং তিনি পরিদর্শন  করেছেন ও  উপযুক্ত  ব্যবস্থা  গ্রহণের  প্রক্রিয়া  চলছে  বলে এ প্রতিনিধি কে জানান।  এলাকাবাসীর প্রশ্ন— কারখানাটির পরিবেশগত ছাড়পত্র রয়েছে কি না, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে— এসব বিষয় এখন খতিয়ে দেখে জনসম্মুখে  উপস্হাপনের  দাবি উঠেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow