সওজ নির্মাণাধীন হোসেনপুর–দেওয়ানগন্জ আরসিসি সড়কে ফুটপাত-ড্রেন না থাকায় চরম ঝুঁকি, দুই বছরেও শেষ হয়নি জমি অধিগ্রহণ কাজ
শাহ সারওয়ার, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জে এমআরসি প্রকল্পাধীন হোসেনপুর -দেওয়ানগঞ্জ সড়কে আজও নির্মাণ হয়নি ফুটপাত ও ড্রেন।
২০২৩ সন থেকে শুরু হওয়া মান উন্নয়ন প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রতা ও দপ্তরগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে নতুন বাজার এলাকার সড়কটি পরিণত হয়েছে মৃত্যু ফাঁদে। চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে ফুটপাত ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাবিহীন জনসমাগমপূর্ণ ব্যস্ততম এলাকাটি। বর্ষা মৌসুমে বাজারের দোকানপাটে পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকারহওয়ার আগাম চিন্তায় দিশেহার ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) আওতায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে নতুন বাজার এলাকায় ফুটপাত ও ড্রেন নির্মাণের কথা থাকলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতা দেখিয়ে আন্তঃ বিভাগের গড়িমসি ও চিঠি চালাচালিতে কাজ এগোচ্ছে না। বিশেষ করে হোসেনপুর উপজেলার ধুলিহর মৌজার ১৩০২-০৩ নম্বর দাগের জমি এখনো অধিগ্রহণ না হওয়ায় ড্রেন নির্মাণ কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।
কিশোরগন্জ জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের চলতি দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল জানান, “ড্রেন নির্মাণ কাজ দ্রুত শুরু করা হবে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ জায়গা অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।” তবে প্রকল্পের তত্বাবধানে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী রুবেল মিয়া' র নিকট জানা যায়, বিতর্কিত ১৩০২-০৩ দাগের জমি নিয়ে এখনো কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি। এমন কি অধিগ্রহণ তালিকা থেকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক (পিডি) সম্পর্কে তার বক্তব্যও ছিল প্রশ্নবোধক।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, জমি অধিগ্রহণের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীকে অনেক আগেই চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলীর দাবি, তিনি ওই চিঠি বিলম্বে পেয়েছেন।তাই একটা অংশে বিলম্ব হচ্ছে।
অন্যদিকে, হোসেনপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সওজ রাস্তা নির্মাণ করার সময় আমাদের ড্রেনের উপরে রাস্তা করে , জনভোগান্তি লাগবে দ্রুত জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে প্রকল্পের কাজ শেষ করা জরুরি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ফাইল ঘোরাফেরা করলেও বাস্তব কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি।
বিএস দাগ ১৩০২-০৩ দাগে ৬০ ফুট জায়গা সরকারিভাবে অধিগ্রহণ করা হলে মালিক পক্ষের সম্মতি রয়েছে বলে জানা গেছে।কিন্তু সওজ কর্তৃপক্ষ এল.এ কেস্ নং ১৮/২০২২-
২৪ এর আওতায় হোসেনপুরের ধুলিহর মৌজায় বিএস দাগ নং ১৩০৬ - এ . ০০১৩ একর ভূমি অধিগ্রহণ এর প্রস্তাব কাগজ পএে প্রমাণ থাকলেও সরেজমিন পরিদর্শন ও ম্যাপ যাচাই করে এ ধরনের কোনো পদক্ষেপের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং তাদের দেওয়া এক চিঠিতে ১৩০৯ নম্বর দাগে সরকারি সম্পত্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট দাগের সঙ্গে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
জমির মালিক তানভীর আহমদ সুমন অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের কাছে ৪০ শতাংশ কমিশন দাবি করা হচ্ছে। না দিলে জমি অধিগ্রহণ করা হবে না—এভাবে প্রায় এক বছর ধরে আমাদের ঘুরানো হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “ড্রেন না থাকায় বর্ষায় দোকানে পানি ঢুকে যায়, ব্যবসা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফুটপাত না থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি এক বৃদ্ধা মহিলা দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান, যা এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
অপরদিকে প্রকল্পের মনিটরিং টিমও ২০২৩ সনের সাত ডিসেম্বর দ্রূত অধিগ্রহণ সম্পন্ন করার জন্য জেলা প্রশাসকের সংগে সমন্বয় করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করে গেলেও অদৃশ্যকারণে অধিগ্রহণ কাজে মন্হর গতি প্রতীয়মান হয়।
এলাকাবাসী দ্রুত জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে ফুটপাত ও ড্রেন নির্মাণের মাধ্যমে সড়কটিকে নিরাপদ করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
What's Your Reaction?