মাদারীপুর বার নির্বাচনে এ্যাড. এমদাদুল হক খান সভাপতি ও এ্যাড. মাহবুব হোসেন শাকিল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত
মাদারীপুর প্রতিনিধি: মাদারীপুর বার নির্বাচনে এ্যাড. এমদাদুল হক খান সভাপতি ও এ্যাড. মাহবুব হোসেন শাকিল সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। এদের মধ্যে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের নিরঙ্কুশ বিজয় হয়েছে। মোট ১৫টি পদের মধ্যে ১৪টিতেই জয় পেয়েছেন তাঁরা। অন্যদিকে, শুধু সভাপতি পদে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর অনুসারী স্বতন্ত্র প্রার্থী। নির্বাচনে মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি পন্থী কোনো প্রার্থীই জয়লাভ করতে পারেননি। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে আইনজীবী সমিতি কার্যালয়ে নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ফরহাদ হোসেন চূড়ান্ত এ ফলাফল ঘোষণা করেন। ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, সভাপতি পদে জয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর অনুসারী এমদাদুল হক খান। তিনি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাফর আলী মিয়াকে ৭৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে বড় জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত সদর উপজেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক মাহাবুব হোসেন (শাকিল)। তিনি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিমকে ১৫৬ ভোটের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেন। নির্বাচনে সিনিয়র সহসভাপতি পদে এক নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই পদে আনোয়ার হোসেন ও জালালুর রহমান উভয়েই ১৩০টি করে ভোট পেয়েছেন। তাঁদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সেলিম মিয়া পেয়েছেন মাত্র ২৯ ভোট। নিয়ম অনুযায়ী, দুই প্রার্থীর ভোট সমান হওয়ায় পুনরায় গণনা অথবা লটারির মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে। অন্যান্য পদে বিজয়ীরা হলেন, সহসভাপতি মাহবুব হাসান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-০১ শাকিলা পারভীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক-০২ মশিউর রহমান পারভেজ, কোষাধ্যক্ষ সুজন ভৌমিক, লাইব্রেরি সম্পাদক মুনীর হাসান এবং মহরার সম্পাদক এ কে এম আজিজুল হক মুকুল। কার্যনির্বাহী ৫টি সদস্য পদে জয়ী হয়েছেন সৈয়দা তাহমিনা খানম, এনামুল হক, আবদুস সালাম, ইকবাল হোসেন ও আবু সুফিয়ান। এর আগে, আপ্যায়ন ও বিনোদন সম্পাদক পদে বদরুন নাহার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। আইনজীবীদের মতে, ১৫টি পদের মধ্যে একটি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হলেও বাকি ১৪টিতে তীব্র লড়াই হয়েছে। তবে ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা কোনো পদেই সুবিধা করতে পারেননি। পুরো প্যানেল জুড়ে আওয়ামীপন্থীদের জয়জয়কার থাকলেও সভাপতি পদে জামায়াত অনুসারীর জয় ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সমিতির ৩০০ জন ভোটারের মধ্যে ২৯৩ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই নির্বাচন সম্পন্ন হয়।
What's Your Reaction?