নান্দাইল রাজগাতি ইউনিয়ন পরিষদে সংকট দেখিয়ে জনগণের টাকা লুটপাট
ব্যুরো প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ অঞ্চল। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ৬ নং রাজগাতী ইউনিয়ন পরিষদে সাধারণ মানুষের সেবা পাওয়ার অধিকার এখন চরম ভোগান্তিতে রূপ নিয়েছে। প্রত্যন্ত জনপদের সহজ-সরল সাধারণ মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে সেবার নামে চলছে রমরমা মোটা অংকের অর্থ বাণিজ্য। অভিযোগের তীর খোদ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ( প্রশাসনিক কর্মকর্তা) সুব্রত চক্রবর্তীর দিকে। সরেজমিনে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাগেছে, বর্তমানে ইউপি চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতির সুযোগে সচিব ( প্রশাসনিক কর্মকর্তা) সুব্রত চক্রবর্তী একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছেন। সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে জন্ম বা মৃত্যুর ৪৫ দিন পর্যন্ত নিবন্ধন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, ৪৫ দিন পর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত ২৫ টাকা এবং ৫ বছর পর ৫০ টাকা ফি নির্ধারণ করা থাকলেও তার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে আসছে। ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান প্রশাসক নান্দাইল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পি আই ও) মোঃ আহসান উল্লাহ একাধিক দপ্তরের দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত থাকায় সুব্রত চক্রবর্তী নিজেই যেন স্বঘোষিত চেয়ারম্যান । জন্ম মৃত্যু ওয়ারিশান সনদ, সংশোধন ও ট্রেড লাইসেন্স, ইজারা ও শালিস বৈঠক হতে বিপুল পরিমান অর্থ কামিয়ে আসছেন। প্রশাসক মোঃ আহসান উল্লাহ কালে ভদ্রে ইউনিয়ন পরিষদে এলে তড়িঘড়ি করে সকল স্বাক্ষর নিয়েই খালাস। ইউনিয়ন তথ্য কেন্দ্রের উদ্যোক্তা মোঃ বিল্লাল মিয়া অতিরিক্ত অর্থ গ্রহনের কারণ সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি। তবে প্রশাসনিক কর্মকর্তা স্যার ২০০/- টাকা নিতে বলেছেন। সরকারী ফি সম্পর্কে দৃশ্যমান নেই কোন নাগরিক সনদ। হিসাব সহকারী মোঃ মোশাররফ হোসেন জানান অবকাঠামো গত সমস্যা প্রকট। দু'দলের টানাটানির কারণে নিজস্ব ভবন হচ্ছে না। প্রকল্পের বরাদ্দ সম্পর্কে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজী হন নি। গ্রাম পুলিশের মাসিক মিটিং ও গ্রাম আদালত এবং পরিষদের মিটিং হয় কিনা জানতে চাইলে ওয়ার্ড সদস্যরাও অবগত নন বলে জানান। সচিব ( প্রশাসনিক কর্মকর্তা) সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ১৫০, ২০০ এমনকি বিশেষ ক্ষেত্রে সাড়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ডিজিটাল সেন্টারে সেবা নিতে আসা জনৈক গ্রাহক এ প্রতিনিধি কে জানান, টাকা না দিলে ‘বিশেষ ফরম’ বা সার্ভার জটিলতার অজুহাত দেখিয়ে দিনের পর দিন তাদের ঘুরানো হয়। গ্রামের দরিদ্র মানুষ বাধ্য হয়েই দাবিকৃত টাকা দিয়ে সেবা নিতে হয়। এলাকাবাসী ও সচেতন মহল অবিলম্বে এই অনিয়ম ও দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ৬ নং রাজগাতী ইউনিয়ন পরিষদকে দুর্নীতিমুক্ত করে সঠিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
What's Your Reaction?