দীর্ঘ তিন মাস বন্ধ থাকার পর বনজীবি ও পর্যটকদের জন্য আজ থেকে খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবনের দুয়ার

Sep 1, 2025 - 23:36
 0  45
দীর্ঘ তিন মাস বন্ধ থাকার পর বনজীবি ও পর্যটকদের জন্য আজ থেকে খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবনের দুয়ার

মোঃকামাল উদ্দিন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি ঃ দীর্ঘ তিন মাস বন্ধ থাকার পর বনজীবি ও পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবনের দুয়ার। আজ সোমবার সকাল থেকে ভ্রমন পিপাসু পর্যটকরা সুন্দরবন ভ্রমণ করতে শুরু করেছেন। জানা যায়, জীব বৈচিত্র রক্ষায় ও মাছের প্রজনন বাড়ানোর লক্ষ্যে গত পহেলা জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনের নদীতে মাছ, কাঁকড়া ও মধু আহরনসহ পর্যটক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। দীর্ঘ তিন মাস পর আজ পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পাওয়ায় পুরোদমে ব্যস্ত সময় পার করছেন বনজীবিরা। দীর্ঘদিন অভাব অনটনে পড়ে থাকা বনজীবীদের মাঝে এখন বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। ৯মাস পরিশ্রম করে ১২ মাসের খোরাকী জোগাড় করতে হয় বনজীবিদের। যে কারণে জেলেরা নৌকা মেরামত নৌকায় রং লাগানো, জাল মেরামত ও জালে রং করা সম্পন্ন করে আবারো নেমে পড়েছেন তাদের কর্মযজ্ঞে। কেউবা দাদন নিয়ে, কেউবা সমিতি থেকে ঋন নিয়ে চাল, ডাল, তরি তরকারি নিত্য প্রয়োজনী জিনিস পত্র সংগ্রহ করেছেন। পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিস সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী, কদমতলা, কৈখালী ও কোবাদক এই চারটি ফরেস্ট স্টেশনের আওতায় সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য ২ হাজার ৯৭০টি বোর্ড লাইসেন্স সার্টিফিকেট (বিএলসি) দেয়া হয়েছে। সুন্দবনের উপর নির্ভর বনজীবীরা জানান, সারাজীবন তারা সুন্দরবনে মাছ, কাঁকড়া ও মধু আহরন এবং সুন্দরবনে পর্যটকদের বহনকৃত ট্রলার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ আসছেন। তবে, দীর্ঘ তিন মাস পাস বন্ধ থাকায় তারা অনেকটা মানবেতর জীবনযাপন করেছেন। বন্ধকালীন সময়ে তারা কোন সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে তাদের বর্তমানে সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে। অনেকেই আবার সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে ও মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়ে গত তিন মাস সংসার চালানোর পাশাপাশি তাদের নৌকা ও ট্রলার মেরামতসহ বাজার সওদা করেছেন। সুন্দরবনে গিয়ে উপার্জন করার পর সেই টাকা পরিশোধ করবেন। তারা এসময় বন্ধকালীন সময়ে সরকারি সহায়তার দাবী জানান। বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান জানান, ধীর্ঘ তিনমাস বন্ধ থাকার পর আজ ১ সেপ্টেম্বর ভোর থেকে জেলে-বাওয়ালীরা পাস সংগ্রহ করে মাছ, কাকড় ও মধু আহরনের জন্য সুন্দরবনে ভিতরে রওনা হয়েছেন। সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতায় ৪টি স্টেশন রয়েছে। সেখান থেকে জেলে বাওয়ালীরা পাস সংগ্রহ করছেন। আনুমানিক প্রায় ৮’শ পাস ইতিমধ্যে সংগ্রহ করেছেন তারা। সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগ সাতক্ষীরার রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ ফজলুল হক জানান, জেলে-বাওয়ালি ও পর্যাটকদের নিরাপত্তায় আমরা সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়েছি। কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও বন বিভাগ যৌথভাবে টহল দেবে। তবে নিয়ম মেনে সবাইকে পাস নিয়ে বনে প্রবেশ করতে হবে। এছাড়া সম্প্রতি বনদস্যুদের তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাদের কাছে কেউ কোন অভিযোগ দেননি। অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে এই কর্মকর্তা আরো জানান।## ০১.০৯.২৫

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow