ফটিকছড়িতে দখল, চাঁদাবাজি, হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন
ফটিকছড়ি প্রতিনিধি
ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারার হেঁয়াকোতে দখলবানিজ্য, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও হয়রানির প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে স্থানীয় ভুক্তভোগী ও থানা যুবদলের নেত্রীবৃন্দ।
২৬ আগস্ট (মঙ্গলবার) বিকেলে উপজেলার হেঁয়াকো বাজারে এ মানববন্ধনে শতশত নারী-পুরুষ ও স্থানীয় যুবদলের নেতৃবৃন্দরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা চাঁদাবাজি ও জবরদখলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছে। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।
ভুক্তভোগী প্রবাসী মানিক বলেন, "দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে আমরা এখানে বসবাস করছি। বিএনপির নামধারী বিপ্লব এসে চাঁদা চাইলে আমি দিতে রাজি না হওয়ায় তারা আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছে। বিপ্লব আমাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। আমার পরিবারের উপর আঘাত করেছে। আমি এর বিচার চাই।"
হামলার শিকার হওয়া আমেনা বিবি অভিযোগ করে বলেন, " বিপ্লব তার বাহিনী নিয়ে আমার বাড়িতে এসে আমার স্বামীকে না পেয়ে আমাকে মারধর করে। আমার সন্তানদের গায়ে হাত তুলেছে। আমার ঘর ভাংচুর করে। সন্ত্রাসী বিপ্লব বাহিনী থেকে আমরা মুক্তি চাই।"
মরিয়ম বেগম বলেন, সন্ত্রাসী নাসির উদ্দীন বিল্পবের অত্যচারে হেয়াঁকো এলাকার মানুষ অসহায়। চাঁদার দাবিতে হত্যার হুমকি, বাড়িঘর ভাংচুর, হামলা করে যাচ্ছে অনবরত। এসব চাঁদাবাজি, ভাংচুর থেকে হেয়াঁকো এলাকার মানুষ রেহাই চায়।"
ভুজপুর থানা যুবদলের আহ্বায়ক নুরুল আমীন বলেন, "হেঁয়াকো এলাকায় দলীয় নাম ভাঙিয়ে কোন অবস্থায় চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না। সে যেই হোক তাকে প্রতিরোধ করা হবে।"
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নাছির উদ্দিন বিপ্লব বলেন, "এগুলো আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ওই ধরণের কোনো কার্যক্রমে আমি জড়িত নই।"
এদিকে, মানববন্ধন চলাকালীন সময়ে নাসির উদ্দীন বিল্পবের অনুসারীরা বাঁধা দিলে দু'পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ৩ জন আহত হয়েছেন। আহত দলের কর্মীরা হলেন, মো. বাবুল (৬০), আব্দুল মালেক অনু (৩৫), মো. শরিফ (২৮)। তারা স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের বিভিন্ন পদে দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানাগেছে।
What's Your Reaction?