অতিবৃষ্টিতে কিশোরগঞ্জ হাওরে বোরো ফসল বিপর্যয়, পানিতে তলিয়ে ৯ হাজার হেক্টর জমি
নিজস্ব প্রতিবেদক, কিশোরগঞ্জ:
উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে অষ্টগ্রাম-ইটনা-মিঠামইনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি; ধান কাটার আগেই কৃষকের স্বপ্ন ডুবছে পানিতে।
টানা অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে কিশোরগঞ্জ হাওর অঞ্চলে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন হাওর এলাকায় আকস্মিকভাবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর জমির পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। নতুন করে আরও কয়েক হাজার হেক্টর জমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অষ্টগ্রাম, ইটনা ও মিঠামইন উপজেলার হাওরগুলো।
অনেক এলাকায় কোমরসমান পানি জমে থাকায় কৃষকরা পাকা ধান কাটতে পারছেন না। ফলে পানির নিচে পড়ে ধান পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে মোঃ পারভেজ মিয়ার সংগে কথা বলে জানা যায়, কয়েকদিন পানির নিচে থাকার কারণে ধানের শীষ কালো হয়ে যাচ্ছে এবং ফলন সম্পূর্ণ নষ্ট হচ্ছে। খলায় রাখা ধান ও খড়ও পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে, যা গবাদিপশুর খাদ্য সংকটও তৈরি করছে। “আমরা ঋণ নিয়ে চাষ করেছি। ধান কাটার আগেই সব পানির নিচে চলে গেল। এখন কীভাবে সংসার চালাবো বুঝতে পারছি না।” — এক হতাশ কৃষক, অষ্টগ্রাম হাওর এলাকা “টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণে পানি দ্রুত বাড়ছে। এখনো অনেক জমির ধান কাটা বাকি, সেগুলোও ঝুঁকিতে রয়েছে।
” জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ডাঃ মোঃ সাদেকুর রহমান সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জে প্রায় ১ লাখ হেক্টরের বেশি হাওর এলাকায় বোরো চাষ হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় অর্ধেক ধান কাটা সম্ভব হলেও বাকি ফসল মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি বছরই আগাম বন্যা ও পানি নিষ্কাশন সমস্যার কারণে হাওরের কৃষকরা একই ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছেন। স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনা ও টেকসই বাঁধ নির্মাণ জরুরি। বর্তমান পরিস্থিতিতে কিশোরগঞ্জ হাওর অঞ্চলের কৃষকরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে এই ক্ষতি দীর্ঘমেয়াদে বড় অর্থনৈতিক সংকটে পরিণত হতে পারে।
What's Your Reaction?