মহিপুরে জামাইয়ের বিরুদ্ধে শ্বাশুড়িকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ
মহিপুর (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর মহিপুরে এক বৃদ্ধা বিধবা শ্বাশুড়িকে মারধর করে নিজ ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার ঘরজামাইয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে লতাচাপলী ইউনিয়নের আজিমপুর গ্রামে। বর্তমানে ভুক্তভোগী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে বোনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। ভুক্তভোগী নুরজাহান বেগম (৫৫) জানান, তার স্বামী মৃত হাবিব সর্দার। একমাত্র মেয়ে হামিদা বেগমকে ১৩ বছর আগে বোনের ছেলে মো. জালালের সঙ্গে বিয়ে দেন তিনি। পরে মেয়ে-জামাইকে নিজ বাড়িতে থাকতে দেন। জালাল পেশায় রাজমিস্ত্রী এবং একই গ্রামের মৃত খালেকের ছেলে। তাদের সংসারে জান্নাতি মিম (১১) ও বায়জিদ (৯) নামে দুই সন্তান রয়েছে। নুরজাহান বেগমের অভিযোগ, স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে সম্প্রতি তার মেয়ে হামিদা বেগম সংসার ছেড়ে চলে যান। এরপরই জামাই মো. জালাল তাকে নিজ ঘর থেকে বের করে দেন। বিষয়টি স্থানীয়দের জানালে তারা মীমাংসার চেষ্টা করলেও সমাধান হয়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে নিজ ঘরে গেলে জালাল স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে তার ওপর হামলা চালান। এতে তার শরীরে আঘাত ও ফোলা জখম হয় এবং পরনের কাপড় ছিঁড়ে ফেলা হয় বলেও দাবি করেন তিনি। নুরজাহান বেগম বলেন, আইনের আশ্রয় নিতে চাইলে জালাল তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। বর্তমানে তিনি জীবননাশের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর আশ্রয়দাতা বোন রহিমা বেগম বলেন, ‘আমার বোনকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এখন সে ভয়ে আমার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। আমরা তার নিরাপত্তা নিয়ে খুবই শঙ্কিত। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।’ স্থানীয় কয়েকজন জানান, ঘটনাটি নিয়ে তারা সমাধানের চেষ্টা করেছিলেন; তবে দুই পক্ষের বিরোধের কারণে তা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত মো. জালাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা। আমি কাউকে মারধর করিনি।’ এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নুরজাহান বেগম প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
What's Your Reaction?