আশুলিয়ায় ভুয়া কবিরাজের প্রতারণা: বাচ্চা না হওয়ার নামে লাখো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন আবুল কাসেম

Jul 20, 2025 - 22:43
 0  108
আশুলিয়ায় ভুয়া কবিরাজের প্রতারণা: বাচ্চা না হওয়ার নামে লাখো টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন আবুল কাসেম

নিজস্ব প্রতিবেদক আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের আর্সেনিরটেক এলাকায় আবুল কাসেম নামে এক ব্যক্তি " পাগল জিন" হাজির করার নামে বাচ্চা না হওয়া মহিলাদের ভুয়া চিকিৎসা দিয়ে প্রতারণা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, তিনি শুধুই ধর্মীয় আবেগ ও অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন, যা সম্পূর্ণ ভণ্ডামি ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড। পান্তাপাড়া ও আশেপাশের একাধিক মহিলা জানান, বাচ্চা না হওয়ার সমস্যা নিয়ে আবুল কাসেমের কাছে গেলে তিনি তিনটি আলাদা সমস্যার কথা বলে প্রতি সমস্যার জন্য ১১ হাজার টাকা দাবি করেন। একজনের কাছ থেকে তিনি প্রায় ৩৩ হাজার টাকা নেন। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ তার কাছে আসেন এবং তিনি এই ভুয়া চিকিৎসার নামে দিনে প্রায় ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। পান্তাপাড়া এলাকার একাধিক ভুক্তভোগী নারী বলেন, তিনি কোনো চিকিৎসা দেন না, শুধু তাবিজ-কবজ আর কিছু মন্ত্র পড়িয়ে টাকা নেন। অনেক দিন চেষ্টা করেও কোনো ফল পাইনি। পরে হাসপাতালে গিয়ে সঠিক চিকিৎসা নেওয়ায় আমার সমস্যার সমাধান হয়েছে। এবিষয়ে কবিরাজ আবুল কাসেম বলেন আমি এসব টাকা নিজে গ্রহণ করি না। এই টাকা দিয়ে মিষ্টি, মোমবাতি ও আগরবাতি কেনা হয়। আমি শুধু মানুষের সেবা করি তবে স্থানীয়রা তার এই দাবিকে অবিশ্বাসযোগ্য বলে উল্লেখ করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবুল কাসেম আগে ডিস লাইনের ব্যবসা করতেন, কিন্তু গত এক বছর ধরে তিনি হঠাৎ করেই কবিরাজ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি ইসলামী ব্যাংক চান্দরা শাখায় এজেন্ট হিসেবেও কাজ করছেন। তবে তার আয়ের উৎস স্পষ্ট নয়। এলাকাবাসী জানান, তিনি সম্প্রতি কোটি কোটি টাকার মালিক তার গ্রামে মধ্যে রয়েছে একতলা বিল্ডিংসহ নানা সম্পত্তির মালিক হয়েছেন, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, আবুল কাসেমের এই কার্যক্রম একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণা, যা বন্ধ করা জরুরি। তারা চান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিক। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাইনোকোলজিক্যাল সমস্যায় আধ্যাত্মিক বা ভুয়া চিকিৎসার পরিবর্তে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এ ধরনের প্রতারকদের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow