উলিপুরে প্রধান শিক্ষকের অবহেলায় স্কুলে চুরি, অনিয়মের অভিযোগে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার রামদাস ধনিরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে অবহেলা ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় সুযোগ বুঝে দুর্বৃত্তরা তালা ও জানালার গ্রিল ভেঙে শ্রেণিকক্ষ ও অফিসকক্ষ থেকে ১০টি ফ্যান চুরি করে নিয়ে গেছে। একটি ফ্যান খুলতে না পেরে দুমড়ে-মুচড়ে কক্ষেই ফেলে রেখে যায় তারা। প্রতিষ্ঠানের পাশেই সহকারী শিক্ষক ফেরদৌসি বেগম এর বাসা, তিনি বলেন আজ বুধবার ২৫ মার্চ স্থানীয় ছেলে স্কুল মাঠে খেলাধুলা করতেছে তারা দেখে স্কুলে গেটের তালা খোলা পরে আমাকে ডাকলে আমি এসে দেখি যে তালা ভেঙ্গেছে ফ্যান একটি রুমে মুচড়ে টেবিলে উপরে পড়ে আছে পরে আমি প্রধান শিক্ষক জানাই। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক মাসুদা বেগম দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিদ্যালয়ে পাঠদানে অনীহা, শৃঙ্খলার অভাব ও প্রশাসনিক দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত ক্লাসে না গিয়ে সহকারী শিক্ষকদের নিয়ে আড্ডায় সময় কাটান। অন্যদিকে সহকারী শিক্ষকরাও নিজেদের ইচ্ছামতো বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করেন, যা তদারকির কোনো ব্যবস্থা নেই। সরেজমিনে দেখা গেছে, ক্লাস চলাকালীন সময়েও অনেক শিক্ষার্থী মাঠে খেলাধুলা করছে, আর শিক্ষকরা বসে গল্প করছেন। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের চারপাশে গাইড ওয়াল নির্মাণের কথা থাকলেও আংশিক কাজ করে শতভাগ সম্পন্ন দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের যোগসাজশের কথাও বলছেন স্থানীয়রা। বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও অধিকাংশ কক্ষে আলো জ্বালানো হয় না। বিভিন্ন স্থানে শুধু হোল্ডার বসানো হলেও বাল্ব নেই। এমনকি বিদ্যালয়ের মূল ফটকের হোল্ডারেও কোনো বাল্ব দেখা যায়নি। অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের একটি গেটপাল্লা প্রায় দুই বছর ধরে ভাঙা থাকলেও তা মেরামতের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থানীয়রা জানান, এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে বিদ্যালয়ের পরিবেশ নষ্ট হয়ে পড়েছে। কাগজে-কলমে শিক্ষার্থীর সংখ্যা থাকলেও বাস্তবে প্রতিটি শ্রেণিতে উপস্থিতি মাত্র ৫-৬ জনে নেমে এসেছে। এর আগেও প্রধান শিক্ষক মাসুদা বেগমের বিরুদ্ধে সিলিপ ফান্ডের অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মাসুদা বেগমের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বিদ্যালয় থেকে ১০টি ফ্যান চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গেছেন বলেও জানান। কাউকে সন্দেহ করা হচ্ছে কি ন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি কাউকে দেখিনি, তাই কারও নাম বলতে পারছি না। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি মাঝেমধ্যে স্কুলে গিয়ে দেখে এসেছি।” বিদ্যালয়ে বিদ্যুতের লাইট না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে লাইট লাগানো হয়েছিল, পরে সেগুলো চুরি হয়ে যায়। এরপর আর নতুন করে লাইট লাগানো হয়নি। এ বিষয়ে ক্লাস্টারের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার জাকির হোসেনর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান বিদ্যালয়ের ক্লাস থেকে ১০টি ফ্যান চুরি হয়েছে। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক আমাকে জানিয়েছিলেন, আমি থানায় জিডি করতে বলেছি। বিদ্যালয়ের লাইট ও সিসি ক্যামেরা না থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, পরবর্তীতে এসব ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
What's Your Reaction?