টাঙ্গাইলে স্কুল ভবন থেকে পড়ে শিক্ষার্থীর মৃত্যু, এলাকাবাসীর দাবি—এটি নিছক দুর্ঘটনা
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়া এলাকায় অবস্থিত শহীদ ক্যাডেট স্কুল-এর একাডেমিক ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মুহিদুল ইসলাম লামিত নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের অনেকেই এটিকে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা বলেই উল্লেখ করেছেন। জানা যায়, আবাসিক থেকে বের হয়ে লামিত স্কুল ভবনের ছয়তলায় ওঠে। পরে ভবনের দেয়াল বেয়ে নিচে নামার চেষ্টা করলে অসাবধানতাবশত পা পিছলে নিচে পড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় শিক্ষকরা তাকে দ্রুত টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল-এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত লামিত টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার নিকরাইল এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আগের রাতে বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় বাড়ি যাওয়ার বিষয় নিয়ে কিছুটা মনোমালিন্য হয়েছিল। এতে সে অভিমান করেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আলোচনা হলেও স্থানীয় অনেকেই এটিকে নিছক দুর্ঘটনা বলেই মনে করছেন। এলাকাবাসীর দাবি, স্কুলটির দীর্ঘদিনের সুনাম রয়েছে এবং এখানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়েও যথেষ্ট নজর দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাই বলেন, “শহীদ ক্যাডেট স্কুল অনেক বছর ধরে ভালোভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এখানে অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে ভালো ফল করছে। এমন দুর্ঘটনা খুবই দুঃখজনক, তবে আমরা এটিকে দুর্ঘটনাই মনে করি।” অভিভাবক রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমার ছেলেও এই স্কুলে পড়ে। স্কুলের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের যথেষ্ট যত্ন নেন। ঘটনাটি শুনে আমরা মর্মাহত। তবে কারও অবহেলা নয়, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে।” এলাকার আরেক বাসিন্দা নুরুল আমিন বলেন, “স্কুলের পরিবেশ ভালো এবং কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের দেখভালে সচেষ্ট। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝি না ছড়িয়ে প্রকৃত বিষয়টি সামনে আসা দরকার।” এ বিষয়ে শহীদ ক্যাডেট স্কুল-এর চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। শিক্ষার্থীটির মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। প্রাথমিকভাবে এটি একটি দুর্ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। তবুও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” অন্যদিকে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, শিক্ষার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশ অবগত হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পর স্কুল ক্যাম্পাসে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা শিক্ষার্থীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।
What's Your Reaction?