কলাপাড়ায় জমির দ্বন্দ্বে সংঘর্ষ, ইউপি সদস্যকে জড়িয়ে অপপ্রচার
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বন্দোবস্তকৃত জমির পুকুরের পাড় কেটে দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে মোসা. নার্গিস বেগম (৩৫) নামে এক নারী আহত হয়েছেন। তবে ঘটনাটিকে ঘিরে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও যুবদল নেতা সোহেল হাওলাদার ও তার ভাই আল-আমিনকে জড়িয়ে যে অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে উপজেলার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের রসুলপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ছোবাহান খানের নামে সরকারের পক্ষ থেকে ১ একর জমি বন্দোবস্ত দেওয়া রয়েছে। ওই জমির একটি অংশে তিনি একটি পুকুর খনন করেন। পুকুরটির পাশেই বেরিবাঁধ সংলগ্ন সরকারি খাস জমিতে একটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে ওই পরিবারের শাহজাহান খলিফা ও তার মেয়ে মোসা. নার্গিসসহ কয়েকজন পুকুরের পাড় কেটে ছোবাহান খানের বন্দোবস্তকৃত জমির একাংশ দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় ছোবাহান খান ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে নার্গিস বেগমের দুই হাত ভেঙে যাওয়াসহ উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। অভিযুক্ত শাহজাহান খলিফা দাবি করেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে এখানে বসবাস করছি। পুরো পুকুরটি আমাদের ডিসিআর কাটা জমির আওতায় পড়ে। কিন্তু আমাদের জায়গা থেকে সরে যেতে চাপ দেওয়া হচ্ছিল।’ তবে এ বিষয়ে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি শাহজাহান খলিফা। অন্যদিকে জমির বন্দোবস্তপ্রাপ্ত মো. ছোবাহান খানের স্ত্রী হেনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমাদের বৈধ বন্দোবস্তকৃত জমিতে আমরা পুকুর খনন করেছি। শাহজাহান খলিফা ও তার পরিবার অবৈধভাবে পাড় কেটে জমি দখলের চেষ্টা করলে বাঁধা দিলে সংঘর্ষ বাধে। এই ঘটনার সাথে সোহেল মেম্বার বা তার পরিবারের কোনো সদস্যের সংশ্লিষ্টতা নেই।’ সরেজমিনে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলেও ইউপি সদস্য সোহেল হাওলাদার বা তার ভাই আল-আমিনের সম্পৃক্ততার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ইউপি সদস্য সোহেল হাওলাদার বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি ইউনিয়ন পরিষদে ছিলাম। এটি সম্পূর্ণ জমি সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনা। আমাকে জড়িয়ে ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।’ ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোফাচ্ছেল হক হিরো বলেন, ‘সোহেল ও তার ভাই আল-আমিন ওই সময় আমার সাথে ইউনিয়ন পরিষদে এনজিও’র একটি ট্রেনিংয়ে ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট।’ মহিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মহাব্বত খান বলেন, ‘ঘটনাটি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
What's Your Reaction?