জেলা প্রশাসনের বুঝিয়ে দেয়া পুকুরে পলাতক ইউপি চেয়ারম্যানের নামে সাইনবোর্ড—ইজারাদারদের অভিযোগে তোলপাড়
স্টাফ রিপোর্টার: জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নের পিঙ্গলহাটি গ্রামের ০.৬২ শতাংশ আয়তনের একটি পুকুর নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক ও উত্তেজনা। জেলা প্রশাসন ২০২৩ সালে সরেজমিন পরিমাপ করে পুকুরটি এক পক্ষকে বুঝিয়ে দিলেও হঠাৎ করেই ৯ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) দুপুরে পলাতক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম আলমের নামে সেখানে নতুন সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেয় ইউনিয়ন পরিষদ। এতে ভয়াবহ বিপাকে পড়েছেন পুকুরটির ইজারাদার সৈয়দা নাজনীন ও মোয়াজ্জেম হোসেন সহ কয়েকজন ভুক্তভোগী। পিঙ্গলহাটি মৌজার দাগ নং ২২৮/৪৪২ নম্বরের পুকুরটিকে সাইনবোর্ডে দেখানো হয়েছে ‘খাস পুকুর’ হিসেবে। উল্লেখ রয়েছে—১৯৯৩ সালের জেলা প্রশাসকের রাজস্ব শাখার স্মারক অনুযায়ী পুকুরটির মালিক শরিফপুর ইউনিয়ন পরিষদ। সাইনবোর্ডে চেয়ারম্যানের নাম দেওয়া হলেও তিনি গত ৫ আগস্ট থেকে পলাতক। অন্যদিকে, শাহজাদী বেগম ওয়াকফ স্টেট-এর দাবি অনুযায়ী, ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে এই পুকুর সৈয়দা নাজনীন ও মোয়াজ্জেম হোসেনকে পাঁচ বছরের জন্য স্থায়ী ইজারা প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসন, এসিল্যান্ড অফিস, ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং ওয়াক্ফ শাখার প্রতিনিধির উপস্থিতিতে ২০২৩ সালের ৩ জুন পুকুরটি ইজারাদারদের আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ইজারাদার নাজনীন বেগম বলেন,“আমাদের সব কাগজ বৈধ। সরকারি প্রতিনিধিরা মেপে আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন। এরপর পুকুর খনন, সংস্কারসহ আমরা প্রায় ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছি। কিন্তু কোনো নোটিশ ছাড়াই প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম আমাদের সাইনবোর্ড ঢেকে দিয়ে নতুন বোর্ড টানিয়ে আসেন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন—“আমিনুল ইসলাম কয়েক মাস আগে আমার বাসায় এসে এই পুকুর ইজারা নিয়ে ৩ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছিলেন। আর্থিক সমস্যায় আমি তাকে ২০ হাজার টাকা দিই। তারপরও তিনি অসৎ উদ্দেশ্যে এই কাজ করেছেন। পলাতক চেয়ারম্যানের নির্দেশ দেখিয়ে তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশকে অমান্য করেছেন।” অভিযোগ অস্বীকার করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম দাবি করেন—“১৯৯৩ সালে জেলা প্রশাসন এই পুকুরসহ কয়েকটি জলাশয় ইউনিয়ন পরিষদের কাছে হস্তান্তর করে। পরবর্তীতে সেগুলো দখল হয়ে যায়। আমি নতুন যোগদানের পর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পুকুরটি পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব পাই।” তিনি আরও বলেন— “ওয়াক্ফ ফাউন্ডেশনের জামালপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকার অফিসে খোঁজ নিয়ে পুকুরটির কোনো ওয়াক্ফ নথি পাইনি। তাদের কাগজ জাল বলে নিশ্চিত হয়ে আমি বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানাই। অনুমতি পেয়ে চেয়ারম্যানের নামে সাইনবোর্ড লাগাই।” ভুক্তভোগী সৈয়দা নাজনীন বলেন—“আমরা বিনিয়োগ করেছি, বৈধ প্রক্রিয়ায় ইজারা নিয়েছি। এখন হঠাৎ সাইনবোর্ড লাগিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা আইনের আশ্রয় নেব।” হঠাৎ করে পুকুরের মালিকানা নিয়ে এমন সংঘাত তৈরি হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আলোচনা চলছে। স্থানীয়রা বলছেন প্রশাসনের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করা হয়েছে। ইজারাদারদের বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়েছে এবং এলাকায় উত্তেজনাকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভুক্তভোগী ইজারাদারদের নেওয়া ইজারা নেওয়া পুকুর ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবী জানান স্থানীয় সচেতনমহল। মেহেদী হাসান জামালপুর। ১১-১২-২০২৫
What's Your Reaction?