মেলান্দহে বিদায়ী শিক্ষা কর্মকর্তাকে খুশি করতে বিদ্যালয়ভিত্তিক চাঁদা আদায়—সমালোচনার ঝড়
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার আনোয়ারুল ইসলাম এর বিদায় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উপজেলার প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে জোরপূর্বক টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদায়ী অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা বলে অনৈতিকভাবে প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে ১,৫০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক শিক্ষক। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদায় অনুষ্ঠানকে আড়াল করে এ চাঁদা সংগ্রহের নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপজেলার ৩ জন প্রধান শিক্ষক—কে.পি. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন, হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতাজ উদ্দীন ও ছবিলাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওয়াজেদ আলী। তাদের উদ্যোগেই বিদ্যালয়গুলোকে বাধ্য করা হচ্ছে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করতে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, “টাকা না দিলে যেনো আমাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অজুহাতে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে—এমন ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বলা হচ্ছে। বাধ্য হয়ে সবাই টাকা দিচ্ছেন।” তারা আরও বলেন, সরকারি চাকরিতে ‘বিদায় অনুষ্ঠান’ একটি ঐচ্ছিক বিষয়, কিন্তু সেটিকে জোর করে চাপিয়ে দেওয়াটা সম্পূর্ণ অনৈতিক। বিদ্যালয়গুলোতে হঠাৎ করে টাকা চাওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে শিক্ষক মহলে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। অনেকেই বিষয়টিকে ‘চাঁদাবাজি’ ও ‘দুর্নীতির নতুন কৌশল’ বলে মন্তব্য করেছেন। স্থানীয় অভিভাবকরাও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন—“শিক্ষার উন্নয়ন না করে কর্মকর্তাদের খুশি করতে টাকা সংগ্রহ—এ কেমন আচরণ?” এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক মমতাজ উদ্দীন ও ওয়াজেদ আলীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কে.পি. সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন মুঠোফোনে বলেন, আমরা উপজেলার সকল প্রধান শিক্ষক বসে একটা বিদায় অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম৷ এখনো টাকা তুলিনি। আর এটি নিয়ে কোন চাঁদাবাজিও হয় নি। একজন শিক্ষা কর্মকর্তার বিদায়ে আমরা নিজেরাই বিদায় আয়োজন ও খাওয়া দাওয়ার জন্য টাকা তোলার কথা বলেছি মাত্র। এদিকে উপজেলা জুড়ে পুরো ঘটনাকে ঘিরে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। শিক্ষক সমাজের দাবি—এ ধরনের অনৈতিক টাকা সংগ্রহের বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিমত, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট উচ্চ কর্মকর্তাদের উচিত জরুরি ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখা এবং প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা। মেহেদী হাসান জামালপুর। ১১-১২-২০২৫
What's Your Reaction?