জামালপুরে টেন্ডার ড্রপে অনিয়মের অভিযোগ- মাহিম ফটোস্ট্যাটের কর্ণধার সোহাগের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা
জামালপুরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের টেন্ডার ড্রপে দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম ভেঙে প্রতারণা করে আসছেন শহরের সকাল বাজার এলাকার মাহিম ফটোস্ট্যাট সার্ভিসিং এন্ড কম্পিউটারের কর্ণধার সোহাগ—এমন অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় ঠিকাদার মহল।
গত চার বছরে তার অনিয়ম, প্রতারণা এবং টেন্ডার না ড্রপ করার অভিযোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন আম্মাজান ট্রেডার্স, সেতারা ট্রেডার্স সহ জেলার শতাধিক ঠিকাদার। এসব ঘটনায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।
রবিবার দুপুরে কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদার সোহাগের দোকানে উপস্থিত হয়ে টেন্ডার ড্রপ না করার বিষয়ে কথা বলতে গেলে দেখা যায়—সোহাগ আগেই পরিস্থিতি আঁচ করে দোকান বন্ধ করে পালিয়ে গেছেন। পরে পুরো দোকান তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেলে ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা দোকানের সামনে জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদারদের ভাষ্য—সোহাগ দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ই-টেন্ডার, টেন্ডার ড্রপ ও ডকুমেন্ট আপলোডের কাজ করার নামে ঠিকাদারদের কাছ থেকে টাকা নিতেন। অনেক সময় টেন্ডার ডেডলাইনের আগেই টাকা গ্রহণ করা হলেও তিনি টেন্ডার ড্রপ করতেন না। পরে দু’-একদিন পর ফোন করে নানা অজুহাতে বলতেন—“সার্ভার ডাউন ছিল'
“টেন্ডার স্লট বন্ধ হয়ে গেছে” “কোড ম্যাচ হয়নি”“দোষ সরকারের সার্ভারের, আমার না”"আমি অন্য একজনকে দায়িত্ব দিয়েছি" এভাবে বছরের পর বছর ধরে ঠিকাদারদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন তিনি।
ভুক্তভোগী ঠিকাদার আল আমিন বলেন—“সোহাগের এই বাটপারি নতুন কিছু নয়। প্রায় চার বছর ধরে সে নিয়মিত এ ধরনের প্রতারণা করছে। টাকা নেওয়ার পরেও টেন্ডার ড্রপ না করে উল্টো মিথ্যা অজুহাত দেয়। আমরা কয়েকজন মিলে হিসাব করলে দেখা যায়, প্রায় ১৫-২০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে আমাদের। অনেক ঠিকাদারের টেন্ডার বাতিল হয়েছে, কেউ কেউ ব্যবসায়িকভাবে দেউলিয়া হওয়ার পথে।”
তিনি আরও বলেন—“এমন প্রতারককে কঠোর শাস্তি না দিলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ক্ষতি হবে। দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”
সোহাগের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আরও অনেক ঠিকাদার জানান—সোহাগের কারণে তাদের সুনাম ও ব্যবসা দুই-ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেউ কেউ টেন্ডার ড্রপ না হওয়ায় বড় প্রজেক্ট হারিয়েছেন, আবার কেউ ব্যাংক লোন পরিশোধে সমস্যায় পড়েছেন।
আরেক ঠিকাদার গাজী সালাহ উদ্দীন খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন— “এটা শুধু আর্থিক ক্ষতি না, আমাদের সময়, শ্রম, বিশ্বাস—সবকিছু নষ্ট করেছে সে।”
সকাল বাজার এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান—সাধারণত টেন্ডার ড্রপের মৌসুমে সোহাগের দোকানে ভিড় থাকত। কিন্তু কিছুদিন ধরে ঠিকাদারদের অভিযোগ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অবশেষে সোহাগ দোকান বন্ধ করে গা-ঢাকা দিলে স্থানীয়দের মধ্যে নানারকম প্রশ্ন তৈরি হয়।
ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা জানান—শুধু দোকান বন্ধ করলেই হবে না। সোহাগকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তারা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে বিষয়টি তদন্ত করে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করার আবেদন জানিয়েছেন।
ঠিকাদার সমাজ মনে করছে—সোহাগের মতো দালাল ও প্রতারণাকারীরা সরকারি টেন্ডার ব্যবস্থায় অস্বচ্ছতা তৈরি করছে। তারা বলেন— “যদি এসব প্রতারণা বন্ধ না হয়, তবে এলাকার উন্নয়ন কাজও বাধাগ্রস্ত হবে।”
জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে এ বিষয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান তারা।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মাহিম ফটোস্ট্যাট সার্ভিসিং এন্ড কম্পিউটারের কর্ণধার সোহাগকে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি।
মেহেদী হাসান
জামালপুর।
০৭-১২-২০২৫
What's Your Reaction?