ফ্যাসিস্ট আমলে সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী বাপ্পী বেসরকারি ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি প্রার্থী
স্টাফ রিপোর্টার:
জামালপুরে সর্বমহলে স্বীকৃত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলে সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী মোস্তাফিজুর রহমান বাপ্পী। আগামী ৪ অক্টোবর জামালপুর বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক সমিতির নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচন করছেন এই ফ্যাসিস্টের সুবিধাভোগী নেতা। তিনি সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ায় বেসরকারি ক্লিনিক মালিক সমিতির সদস্যদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর আতিউর রহমানের ভাতিজা ও সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোজাফফর হোসেনের ভাতিজি জামাই বাপ্পী বিগত সরকারের সময় সর্বক্ষেত্রে প্রভাব খাটান। শুধু বেসরকারি স্বাস্থ্য খাত নয় জেলার সরকারি স্বাস্থ্য খাতের নিয়ন্ত্রক ছিলেন তিনি। সরকারি ওষুধ ক্রয়, নিয়োগ, বদলীসহ স্বাস্থ্য বিভাগের সবকিছুই চলছে তার ইশারায়। বেসরকারি কোন ক্লিনিকের লাইসেন্স হবে কোনটার হবে না তাও নির্ধারণ করে দিতেন প্রভাবশালী বাপ্পী।
অভিযোগ উঠেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির প্রধান ভূমিকায় থাকা তৎকালীন গভর্নর ড. আতিউর রহমানের ভাতিজা মোস্তাফিজুর রহমান বাপ্পী ব্যাংকগুলোতে ব্যপক প্রভাব বিস্তার করেন। জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ চৌধুরীর সাথে যোগসাজশে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে শুরু করে জামালপুরের বিভিন্ন শাখায় তার প্রভাব ছিল। জেলার পাওয়ার হাউজ নামে পরিচিত সৈয়দ বাড়িতে বসেই সব সিদ্ধান্ত নিতেন চৌধুরী আর বাপ্পী গং। বড় বড় ঋণ অনুমোদনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতো পাওয়ার হাউজ থেকেই। বর্তমানে বড় বড় এসব ঋণের বেশিরভাগই খেলাপি। ব্যাংকের কোন কর্মকর্তাকে কোন শাখায় বদলী করতে হবে, কাকে প্রমোশন আর কাকে ডিমোশন দিতে হবে সেই সিদ্ধান্ত আসতো সেখান থেকেই। আর এসব বাস্তবায়ন করতেন বাপ্পী।
আওয়ামী লীগ নেতাদের আস্থা অর্জন করায় বাপ্পী জামালপুরে ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ সংগঠন দি জামালপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির পরুচালক মনোনিত হয়ে ব্যবসায়িক অঙ্গনেও ব্যাপক প্রভাব খাটান। বিশেষ করে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগকে জিম্মি করে রেখেছেন তিনি। তিনি এতটাই প্রভাবশালী তার পরিচালিত হাসপাতালে আইসিইউ, সিসিইউ চলছে অনুমোদন ছাড়াই। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে সুচতুর বাপ্পী জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফারুক চৌধুরীকে বেসরকারি ক্লিনিক মালিক সমিতির সভাপতি এবং নিজেকে সাধারণ সম্পাদক মনোনিত করে কমিটি ঘোষণা করেন। তার মনগড়া কমিটি গঠনের কারনে বেসরকারি ক্লিনিক মালিক সমিতি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পাল্টা কমিটি গঠিত হয়। ৫ আগস্ট পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সুচতুর বাপ্পী নিজের অবস্থান ধরে রাখতে জেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি অধ্যাপক হারুন অর রশীদকে সভাপতি করে বেসরকারি ক্লিনিক মালিক সমিতির কমিটি গঠন করেন।
আসন্ন বেসরকারি ক্লিনিক মালিক সমিতির নির্বাচনে তিনি সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন গঠন করে প্রার্থীরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ঘুরলেও গত সোমবার পর্যন্ত ভোটার তালিকাই চূড়ান্ত হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ক্লিনিক মালিক অভিযোগ করেন, বিগত সময় তারা ভোটার থাকলেও এবার তাদের ইচ্ছাকৃত বাদ দেওয়া হয়েছে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম না উঠলে তারা আইনী পদক্ষেপ নিবেন বলেও চিন্তা করছেন।
অভিযোগ উঠেছে, ফ্যাসিস্ট আমলে সর্বোচ্চ সুবিধা নেওয়া বাপ্পী তার পক্ষেনির্বাচনী প্রচারণায় নামিয়েছেন ফ্যাসিস্ট ফারুক চৌধুরীকে। তিনি বাপ্পী ও সোহেলের পক্ষে ভোট চাইছেন।
পতিত আওয়ামী লীগের বিশ্বস্ত মোস্তাফিজুর রহমান বাপ্পী ২০২৪ সালের জুলাই আগস্টের আন্দোলনের সময় প্রায়ই জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে যাতায়াত করতেন। তার পরামর্শেই বেসরকারি ক্লিনিক মালিক সমিতির নেতা জুলাই যুদ্ধা বুলবুলকে গ্রেপ্তার করানোর জোরালো ভূমিকা রাখে পুলিশ।
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি।
আওয়ামী লীগের দোসর মোস্তাফিজুর রহমান বাপ্পীর বিরুদ্ধে উঠা এসব অভিযোগ তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর দ্রুত উদ্যোগ নেবে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা।
জামালপুর।
২৩-০৯-২০২৫
What's Your Reaction?