মাদারীপুরে ইতালি প্রবাসীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় শ্বশুরবাড়িতে আগুন দিল গ্রামবাসী

Jun 25, 2025 - 18:24
 0  63

মাদারীপুর প্রতিনিধি
মাদারীপুরের রাজৈরে ইতালি প্রবাসী হালিম খানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তার শ্বশুরবাড়িতে আগুন দিয়েছে খ্রিপ্ত গ্রামবাসী 
ও স্বজনেরা। আজ বুধবার (২৫ জুন) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের দারাদিয়া গ্রামের সোমেদ চৌকিদারের বসতবাড়িতে এ অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় একটি রান্নাঘর, ধান রাখার গোলাঘর ও চার রুম বিশিষ্ট একটি ভবনের ভেতরে থাকা সকল জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে সোমেদ চৌকিদারের বাড়িতে তার মেয়ে রেশমা বেগমের স্বামী ইতালি প্রবাসী হালিম খানকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে চিকিৎসার কথা বলে হালিমের মরদেহ রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। সেখানেই মরদেহটি ফেলে রেখে পালিয়ে যায় স্ত্রী রেশমা ও তার পরিবারের লোকজন। ঘটনাটি জানাজানির পর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে গ্রামবাসী। বুধবার সকালে নিহত হালিমের স্বজন ও গ্রামবাসী মিলে সোমেদ চৌকিদারের বসতবাড়িতে ভাঙচুর করে এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। পরবর্তীতে খবর পেয়ে রাজৈর থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে হত্যার পরই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন সোমেদ চৌকিদার ও তার পরিবারের সদস্যরা।এ ব্যাপারে রাজৈর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান ঢাকা পোস্টকে জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। গতকালকের হত্যার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। এদিকে আর কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যেন না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে। রসঙ্গত, চার বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক করে রাজৈর উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের উত্তর দারাদিয়া গ্রামের সোমেদ চৌকিদারের মেয়ে রেশমা বেগম ও পার্শ্ববর্তী ইশিবপুর ইউনিয়নের নগর গোয়ালদি গ্রামের ইতালি প্রবাসী হালিমের দ্বিতীয় বিয়ে হয়। পরে পর্যায়ক্রমে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা সোমেদ চৌকিদারকে ৬০ লাখ টাকা দেন হালিম।   ইতালি থেকে আসার আগে নিজের জন্য মোটরসাইকেল কিনতে টাকা পাঠান। কিন্তু সেই মোটরসাইকেল তার শ্যালক সবুজ চৌকিদারের নামে কেনা হয়। তিন মাস আগে ইতালি থেকে দেশে আসলে পাওনা টাকা ও মোটরসাইকেল নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। একপর্যায়ে সব কিছু ফেরত চাইলে তার দ্বিতীয় স্ত্রী, শ্যালকসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন সোমবার (২৩ জুন) রাতে হালিমকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে ও গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করে। এরপর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মঙ্গলবার (২৪ জুন) সকালে রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গিয়ে মরদেহটি ফেলে পালিয়ে যান স্ত্রী রেশমাসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন। পরে খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে মাদারীপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায় পুলিশ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow