মহিপুরে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

Dec 19, 2025 - 00:33
 0  23
মহিপুরে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন

মহিপুর (পটুয়াখালী) প্রতিনিধিঃ পটুয়াখালীর মহিপুরে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার সকালে মহিপুর থানাধীন ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের খাপড়াভাঙ্গা এলাকায় আয়োজিত এ মানববন্ধনে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে নিরপরাধ ব্যক্তির বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে হয়রানি করা হচ্ছে। তারা অবিলম্বে এই হয়রানি বন্ধ করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। কর্মসূচি থেকে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো, নিরপরাধ রহিম খানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা প্রত্যাহার ও তাকে অব্যাহতি প্রদান। অর্থের বিনিময়ে একতরফা ও পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ। মামলাটির পুনঃতদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার জেএল নং–৩৩ হরেন্দ্রপুর মৌজা ও কিসমতে এসএ ১০৬ ও ৬২ নম্বর খতিয়ানে রহিম খান গং এবং মোছা. মনিরা বেগম গংদের জমি রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, কাগজপত্র অনুযায়ী মনিরা বেগম গংদের যে পরিমাণ জমি পাওয়ার কথা, বিএস জরিপে তার চেয়ে অতিরিক্ত জমি তাদের নামে রেকর্ড হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে বসে সমাধানের প্রস্তাব দেওয়া হলেও মনিরা বেগম গং বারবার সময়ক্ষেপণ করেন বলে অভিযোগ করেন রহিম খান গং। পরবর্তীতে কাগজপত্র অনুযায়ী নিজেদের জমি ভোগদখলের উদ্যোগ নিলে রহিম খানদের ফাঁসাতে একটি মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সিআর মামলা নং ৮৫৮/২৫ হিসেবে দায়ের করা হয়। রহিম খান বলেন, ‘আমরা এসএ ১০৬ ও ৬২ নম্বর খতিয়ানে মোট ৩৬.২৯ একর সম্পত্তির রেকর্ডীয় মালিক। অথচ মামলার নথিতে দেখা যায়, মনিরা বেগমদের স্বামী ওই দুই খতিয়ানে মাত্র ৬ দশমিক ৭৯ একর জমি ক্রয় করেছেন। বিএস জরিপে অতিরিক্ত জমি রেকর্ড হওয়াকে কেন্দ্র করেই এই বিরোধের সূত্রপাত।’ তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘আদালত মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা শাখাকে দায়িত্ব দিলেও তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে আমাদের বক্তব্য না শুনে একতরফাভাবে প্রতিবেদন দাখিল করেন।’ মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, নিরপেক্ষ পুনঃতদন্ত ছাড়া এই ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন সম্ভব নয়। অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে মনিরা বেগম বলেন, ‘আমাদের রেকর্ডীয় প্রায় ১.২০ একর জমিতে একটি মাছের ঘের রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ওই ঘেরটি মঞ্জু নামের এক ব্যক্তির কাছে লিজ দেওয়া ছিল। প্রায় ৯ বছর সে লিজ নিয়ে মাছ চাষ করেছে।’ তিনি আরও দাবি করেন, ‘গত বছর আমরা মঞ্জুকে আর লিজ না দিয়ে নুরছায়েদ নামের আরেকজনকে লিজ দিলে মঞ্জু ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এরপর রহিম খানের পরামর্শে আমাদের ঘের দখলের ষড়যন্ত্র শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা আমার মেয়ে ও আমাকে মারধর করে। বাধ্য হয়ে আমি আদালতের আশ্রয় নিই।’ এ বিষয়ে পটুয়াখালী জেলা গোয়েন্দা শাখার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘উভয় পক্ষকে নোটিশ প্রদান করে তাদের উপস্থিতিতেই সরেজমিনে তদন্ত সম্পন্ন করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।’ মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত করেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow