কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবার আয়োজনে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি।
আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, সম্মাননা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
"একদিন তুমি পৃথিবী গড়েছ, আজ আমি স্বপ্ন গড়বো সযত্নে তোমায় রাখবো আগলে।"
— প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে ৩৫তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০২৫। দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে ৭ অক্টোবর ( সোমবার) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক (যুগ্মসচিব) ফৌজিয়া খান।
সভাপতিত্ব করেন প্রবীণ হিতৈষী সংঘ, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি ডাঃআতিকুল সারোয়ার।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রবীণরা আমাদের সমাজের ভিত্তি ও অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁদের অভিজ্ঞতা, পরামর্শ ও নৈতিক দিকনির্দেশনা একটি সুস্থ ও মানবিক সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা ও যত্ন শুধু পারিবারিক দায়িত্ব নয়, এটি সামাজিক ও মানবিক কর্তব্যও।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমান সরকার প্রবীণদের কল্যাণে নানাবিধ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, যার মধ্যে বয়স্কভাতা, প্রবীণ হিতৈষী সংঘ গঠন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও স্বাস্থ্যসেবার প্রসার অন্যতম। এসব উদ্যোগ প্রবীণদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সমাজসেবা অধিদফতরের কর্মচারী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রবীণ নাগরিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা সমাজে প্রবীণদের মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। তারা বলেন, প্রবীণরা পরিবারের ইতিহাস ও মূল্যবোধের ধারক, তাঁদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন করলে তরুণ প্রজন্মও মানবিকতার শিক্ষা পায়।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জেলা সমাজসেবার উপ-পরিচালক কামরুজ্জামান খান।
সভা শেষে প্রবীণ নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবা ও পরামর্শ প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। দিনব্যাপী এ কর্মসূচির সার্বিক সহযোগিতা করে বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ, কিশোরগঞ্জ জেলা শাখা।
জাতিসংঘ ঘোষিত এ দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো— প্রবীণ ব্যক্তিদের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ সম্পর্কে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সমাজে প্রবীণদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ আরও জোরদার হবে।
What's Your Reaction?