আজ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস

6

কমল পাটোয়ারী মিরসরাই প্রতিনিধিঃ আজ ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অনন্য এক দিন। মুক্তিযুদ্ধ সময়ে ১৯৭১ সালের এই দিনে মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার শপথ গ্রহণ করে। পরে এই বৈদ্যনাথতলাকে মুজিবনগর হিসেবে নামকরণ করা হয়। অস্থায়ী সরকারের সফল নেতৃত্বে মাত্র ৯ মাসের যুদ্ধে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে যায় মেহেরপুরের মুজিবনগর। এর আগে ১০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সর্বসম্মতিক্রমে স্বাধীনতা যুদ্ধ পরিচালনা ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে বিতাড়িত করে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঘোষিত ও নির্দেশিত পথে মুক্তিযুদ্ধের বিজয় অর্জনের জন্য অস্থায়ী সরকার গঠন করা হয়। অস্থায়ী এ সরকারের রাষ্ট্রপতি করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। অন্যতম ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। তারা শপথ প্রহণ করেন ১৭ এপ্রিল। সেদিন মুজিবনগরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপ-রাষ্ট্রপতি ও তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার। এসময় বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন। এ কারণে তার অনুপস্থিতিতে উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামকে করা হয় অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি। সরকারে আরো ছিলেন অর্থমন্ত্রী এম মনছুর আলী, স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী হিসেবে কামারুজ্জামান, পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী হিসেবে খন্দকার মোশতাক আহমেদ শপথ গ্রহণ করেন। এ ছাড়াও চিফ অফ আর্মি স্টাফ হন আবদুর রব ও বিমানবাহিনীর প্রধান হন এ কে খন্দকার।
এ সরকার গঠনের ফলে বিশ্ববাসী স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামরত বাঙালিদের প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে। মুজিবনগর সরকার গঠন বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অনন্য গৌরবগাথা ও সাফল্যের স্বাক্ষর।
১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসে ঘোষণা পাঠ করেন দিনাজপুর থেকে নির্বাচিত জাতীয় পরিষদের সদস্য ও আওয়ামী লীগ পার্লামেন্টারি পার্টির টিফ হুইফ অধ্যাপক ইউসুফ আলী।
অনেক জীবন এবং এক সাগর রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ পেয়েছিল তার আসল বাস্তবতা। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বাঙালি জাতির আন্দোলনের কারণ সম্পর্কে সেই ১৮৮৫ সাল থেকে শুরু করে ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত অনেক ঘটনায় উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশিদের স্বপ্ন চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হয়েছিল ১৯৭১ সালে ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর আম বাগানে। যেখানে বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ নিয়েছিল। সেখানে সেই মহতী অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেছিলেন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক এবং বিশিষ্ট রাজনীতিবিদরা। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র নামে একটি রেডিও সেন্টার স্থাপন করে প্রথম সরকারের শপথ অনুষ্ঠান সারাদেশে সম্প্রচার করা হয়েছিল এবং মুজিবনগর সেদিন পেয়েছিল ঐতিহাসিক মর্যাদা।
১০ এপ্রিল ১৯৭১ এক ঘোষণার মাধ্যমে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠিত হয়েছিল যা মুজিবনগর থেকে ইস্যু করা হয়েছিল। উল্লেখ্য, এই ঘোষণা বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পূর্বের ঘোষণাকে দৃঢ়করণ করে। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রথম প্রবাসী সরকারের রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ।
সে সময় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী মেহেরপুরকে করতলে নিলেও পৌঁছতে পারেনি বৈদ্যনাথতলায়। তদানীন্তন মেহেরপুর মহকুমার বাগোয়ান ইউনিয়নের নিভৃত পল্লী বৈদ্যনাথতলা। স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সমস্ত সময় এ জায়গাটি ছিল নির্বিঘœ। ব্রিটিশ শাসনামলে পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার অন্তর্গত মেহেরপুর ছিল মহকুমা শহর। সেই সুবাদে কলকাতার সঙ্গে এই বৈদ্যনাথতলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগের ব্যবস্থা ছিল। সরকার গঠনের পর মুজিবনগরকে অন্তবর্তীকালীন রাজধানী ঘোষণা করা হয়েছিল। পাশাপাশি স্বাধীনতার ফরমান জারি করে মুক্তিযুদ্ধ শুরু করা হয়েছিল। এই সময ও শপথ গ্রহণের স্থানকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে বৈদ্যনাথতলা নাম পরিবর্তন করে নাম রাখা হয় মুজিবনগর। তখন থেকে ১৭ এপ্রিলকে বলা হয় মুজিবনগর দিবস এবং সেই থেকেই এই দিনটি মুজিবনগর দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

ভাগ