শাকিব খানের কাছে এক পাগল ভক্তের অনুরোধ

17

নায়িকাপ্রীতি এবং অদক্ষ নিন্মমানের পরিচালকদের কাছে টেনে ক্যারিয়ার হুমকির মুখে ফেলছেন দেশ সেরা সুপারষ্টার।

শাকিব খানের অন্ধ এক ভক্তের অনুরোধ হুবুহু তুলে ধরেছেন ভিন্নবার্তা ডটকমের বিনোদন প্রতিবেদক সেলিম শাকিব। 

শাকিব খানের অন্ধ ভক্ত রাসেল ইউসুফ

১৯৯৯ সালে বাংলা চলচ্চিত্রে আবির্ভাব হওয়া মাসুদ রানা ওরফে শাকিব খান দীর্ঘ এক যুগেরও বেশী সময় ধরে ঢাকাই চলচ্চিত্রে শীর্ষ আসন দখল করে আছেন। বাংলা চলচ্চিত্রের সিংহভাগ রেকর্ড তার দখলে। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সব রকম কষ্ট তিনি করেছেন, সিনিয়র নায়কদের সাথে সাইড রোল করা থেকে শুরু করে বি গ্রেডের নায়িকাদের সাথে কাজ করে টিকে থাকার চেষ্টা করে প্রধান নায়িকাদের সাথে বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করতেও কখনো সংকচবোধ করেননি। লক্ষ্য একটাই সাফল্যের উচ্চআসনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। যার ফলশ্রুতিতে ২০০৫ থেকে ২০০৭ টানা সুপারহিট মুভি উপহার দিয়ে ২০০৮ এর শুরুতে দেশের এক নাম্বার নায়কের আসন দখল করেন। অসংখ্য ব্যবসাসফল মুভি ইন্ডাস্ট্রিতে উপহার দিয়ে অশ্লীলতার জন্য ডুবে যাওয়া বাংলা সিনেমাকে নতুন ভাবে ভেসে উঠার সপ্ন দেখান। ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রি নতুন করে জেগে উঠার সপ্ন দেখে। প্রিয়া আমার প্রিয়া মুভি দিয়ে সাড়াদেশে আরো একবার টনক নড়িয়ে দিয়ে জানান দেন তিনিই আগামী দিনের সুপারষ্টার। একই ঈদে একসাথে ৫ টি মুভি রিলিজ দিয়েও সবগুলো হিটের তকমা পায়। কিন্তু এত কিছুর মাঝেও কোথায় যেন কি নেই। সুপারষ্টার হবার পর মান্নার বিদায়ের পর তিনি হয়ে উঠেন সবার ধরা ছোয়ার বাইরে। একের পর এক হিট মুভি দেয়ার পরেও দর্শকের কোথায় যেন একটা অতৃপ্তি দেখা যায়। নিজেকে মেলে ধরার নেশা তার মধ্যে অনেকটা হারিয়ে যায়, ব্যক্তিগত প্রেম ভালবাসা কে দর্শকের উপর জোড় করে চাপিয়ে দেয়ার একটা পরোক্ষ চেষ্টা আলোর মত পরিষ্কার হয়ে উঠে। হতে থাকেন সমলোচিত, হয়ে উঠেন অনেকের কাছে ট্রলের পাত্র। হারিয়ে ফেলেন সকল শ্রেনীর নিকট দর্শকপ্রিয়তা। তার জনপ্রিয়তাকে পুজি করে অনেকে তৈরি করেন একের পর এক মানহীন চলচ্চিত্র। হতে থাকেন দারুনভাবে এলিট শ্রেনীর নিকট সমলোচিত। এবার হঠাৎ করেই ভালবাসার মানুষের আত্বগোপন দর্শকের শস্তির নিঃশ্বাস। ২০১৬ সাল শিকারী, সম্রাট, দিয়ে জানান দেন তিনি ফুড়িয়ে যাননি, ইন্ডাস্ট্রিকে দেবার মত অনেক কিছু এখনো বাকি তার। কিন্তু বছর না ঘুড়তেই বিধিবাম, শুরু হয় নতুন প্রেমকাহিনী নির্লজ্জ ভাবে একই ভূল বার বার, কলকাতার কিছু মুভিতে নিজের জাত চেনালেও দেশের মাটিতে প্রতিনিয়ত তার পুরোনো বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠতে থাকে। এবং উচ্চপারিশ্রমিক দাবির নামে কলকাতার ভাল মুভি ছেড়ে দেয়া এবং প্রেমিকাকে নিয়ে চলচ্চিত্রের নামে নিজের এবং দেশের ইন্ডাস্ট্রির ১২ টা বাজানোর ভাল পরিকল্পনা করেছেন। এই যুগে এসে মেদ বহুল শরীর নিয়ে পর্দায় আসার আগে একটু কি নিজের মান যাচাইয়ের চেষ্টা করা তার উচিৎ ছিল না?
তাই প্রিয় সুপারষ্টারের কাছে অনুরোধ
অনেক পেয়েছেন ইন্ডাস্ট্রি থেকে, দিয়েছেনও অনেক। যদি আর দেবার ক্ষমতা না থাকে তাহলে প্লীজ অবসরে যান। প্রেমিকা বিয়ে করে হানিমুন করে ঘুড়ে বেড়ান, ফেসবুকে সেলফি দিয়ে রিয়াজ ফেরদৌসরা ১০ বছর বেচে আছে আপনি আরো বেশি সময় বেচে থাকবেন। তবুও রিয়াজ ফেরদৌস দের মত অযোগ্য হয়ে টানা ২৫/৩০ ফ্লপ দিয়ে ইন্ডাস্ট্রির ১২ টা বাজিয়েন না। অন্ধ ভক্ত শ্রেনীও আজ আপনার কার্যক্রমে হতাশাগ্রস্থ। ফিরে আসুন আপন মহিমায় নয়ত বিস্রামে যান।

লিখেছেনঃ রাসেল ইউসুফ (শাকিব খান ভক্ত)

ভাগ