সোহেল কে পরিকল্পিত হত্যা করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন মাহমুদ হাসান রিপন

6

সাজেদুর আবেদিন শান্তঃ
মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মহিউদ্দিন সোহেলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতারা। তারা বলেছেন, ষড়যন্ত্রমূলক এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন মহিউদ্দিন সোহেল। হত্যাকারীরা তাকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, এখন তার নামে ‘চাঁদাবাজ’ ও ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন নেতারা। এতে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন। উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা রাশেদুল মাহমুদ রাসেল, হাসানুজ্জামান লিটন, রফিকুল আলম গাফ্‌ফারী রাসেল, ফজলুল হক, আবু সাঈদ, ইকবাল মাহমুদ বাবলু, শাহিনুর রহমান টুটুল, জসিম উদ্দিন, রিপন পোদ্দার, মিজানুর রহমান, মিজানুর রহমান শাহীন, আরিফুল ইসলাম উজ্জ্বল, শেখ সোহেল রানা টিপু, সাজ্জাদ সাকিব বাদশা, ওমর শরীফ, মফিজুল ইসলাম ঢালী, জুলফিকার আলী, শফিক আহমেদ, মোক্তারুল হাসান মিলটন, মনির হোসেন, ফাহিম খান রনি, মাসুম হাসান প্রমুখ।
নিহত মহিউদ্দিন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের রিপন-রোটনের নেতৃত্বাধীন কমিটির উপ-শিক্ষা ও পাঠচক্র সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদকও ছিলেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে মাহমুদ হাসান রিপন বলেন, মহিউদ্দিন সোহেল দীর্ঘদিন ছাত্রলীগ ও কেন্দ্রীয় রাজনীতির পাশাপাশি একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তার জন্মস্থান চট্টগ্রামের পাহাড়তলীকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত করার সংগ্রামের প্রথম কাজ হিসেবে ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত দিশারী ক্লাবকে গত বছর সংগঠিত করেন। স্থানীয় কয়েকটি মাদকের আখড়া ভেঙ্গে দেন তিনি। স্থানীয় কাউন্সিলর সাবের সওদাগরের নেতৃত্ব কর্তৃত্বে এবং সাবেক জামায়াত নেতা ও বর্তমান জাতীয় পার্টি নেতা ওসমান খানের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা অনৈতিক ব্যবসার আখড়া ভেঙে দিয়ে এলাকাবাসীর জন্য জানাযার নামাজের মাঠ নির্মাণ করে দেন।
তিনি বলেন, এমন আরো অনেক জনকল্যাণকর উদ্যোগের ফলশ্রুতিতে স্থানীয় ভূমিদস্যু, মাদক এবং অসামাজিক কার্যকলাপকারী ব্যক্তিদের রোষানলে পড়েন মহিউদ্দিন সোহেল। তারাই ‘চাঁদাবাজ’ ও ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে পরিকল্পিতভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে তাকে। ঘটনা ধামাচাপা দিতে হত্যাকারীরা এখনও তার নামে মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা এ হত্যাকাণ্ড ও মিথ্যাচারের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ারও জোর দাবি জানাই।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু বলেন, মূলত মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় মহিউদ্দিন সোহেলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে একটি চক্র। পাহাড়তলী বাজার ও আশপাশের এলাকাকে সিসি ক্যামেরার আওতাধীন করার উদ্যোগ, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা করার ঘোষণা এবং তার লিজকৃত জমিতে জানাযার মাঠ করার উদ্যোগ নেওয়াই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। এ কারণে সেখানকার প্রভাবশালীদের বিরাগভাজন হয়ে ওঠেন তিনি। যার মূল্য দিতে হয় তাকে তার জীবন দিয়ে। তার মত এমন ভালো একটি ছেলের এ রকম পরিণতি হবে তা ভাবতেও অবাক লাগে।

ভাগ