শিক্ষার আলোয় সমাজকে আলোকিত করছে সামাজিক সংগঠন আলোর প্রদীপ

23

বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলার জাগরণী সামাজিক উন্নয়নমূলক সংগঠন ‘আলোর প্রদীপ’। ২০০৮ সালে সামাজিক সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে এ অঞ্চলের দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তা প্রদান,নিরক্ষরতা, অপসংস্কৃতি রোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে চলেছে। দীর্ঘ এক দশকের যাত্রায় মাদক, জুয়া ও অশ্লিলতা রোধে আলোর প্রদীপ সংগঠনের গৃহীত কর্মসূচি সর্বজনের প্রশংসা কুড়িয়েছে। নির্বাচিত দরিদ্র-অসহায় শিক্ষার্থীদের প্রথম শ্রেণি হতে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা ব্যয় বহণের এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলেছে সংগঠনটি। সোনাতলার গুণী শিক্ষক ও সংগঠনটির উপদেষ্টা মরহুম বাহার উদ্দীনের নামে ‘বাহার উদ্দীন দরিদ্র শিক্ষার্থী শিক্ষা সহায়তা প্রকল্প’ এর অধীনে তারা এ কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে। আলোর প্রদীপ সংগঠনের বার্ষিক প্রতিবেদন তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায় এ পর্যন্ত সংগঠনটি ৮৩ জন অতি দরিদ্র শিক্ষার্থীর শিক্ষাক্ষেত্রে সকল ব্যয় বহন ও বর্তমানে ১৩জন দরিদ্র শিক্ষার্থীকে সহায়তা প্রদান করে চলেছে।আলোর প্রদীপ সংগঠনের সহায়তায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা পরিবার কে সহায়তার পাশাপাশি উচ্চতর শিক্ষা গ্রহনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।ইতিমধ্যে তাদের অনেকেই কর্মজীবনে প্রবেশ করেছে।অথচ তাদের প্রাথমিক শিক্ষা জীবনেই ঝড়ে পড়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা ছিলো।কিন্তু আলোর প্রদীপ সংগঠনের সহায়তায় আজ তারাও উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের স্বপ্ন বুকে ধারণ করে। প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের স্কুল ব্যাগ,স্কুল ড্রেসসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ প্রদান অব্যাহত রেখেছে সংগঠনটি।তাদের তথ্যবার্তা অনুসারে এখন পর্যন্ত ২৮৯০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে আলোর প্রদীপ শিক্ষা উপকরণ বিতরনের কাজ সমাপ্ত করেছে। ২০০৯ সাল থেকে নির্বাচিত মেধাবী শিক্ষার্থীরা “আলোর প্রদীপ বৃত্তি প্রকল্প” হতে নিয়মিত বৃত্তি পাচ্ছে।এখন পর্যন্ত তারা ৩৭৪ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদানের কাজ সমাপ্ত করেছে।২০১৮ সাল থেকে ‘জামিল আখতার বীনু দরিদ্র শিক্ষার্থী পুষ্টি প্রকল্প’ এর অধীন সংগঠনটি উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ানোর পাশাপাশি ১৩জন দরিদ্র শিক্ষার্থীকে শিক্ষা সহায়তা ও নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার প্রদানের মাধ্যমে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হয়েছে।শিক্ষা সহায়তার পাশাপাশি আলোর প্রদীপ ০৫ টি বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ,২৩৪৫জন শিক্ষার্থীকে পুষ্টিকর খাবার প্রদান,বাল্য বিয়ে সম্পর্কে জনসচেতনতামূলক ২১৩টি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ২৪৬৬ জন অভিবাবককে সচেতন করা,উপজেলার সার্বিক মাদক চিত্র সম্পর্কে ০৫টি প্রতিবেদন প্রকাশ,মাদক বিরোধী ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৬৭৭৩৮ জন মানুষকে সচেতন করা,জনসচেতনতামূলক ০৫টি মঞ্চ নাটক মঞ্চায়ন,২০৯ জন দুস্থ কে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান,কন্যাদায়গ্রস্থ ৩৪ টি পরিবারকে সহায়তা প্রদান,৪২৫৫জন দরিদ্র পরিবারে শীতবস্ত্র বিতরণ,২১৩০জন বন্যাদূর্গত পরিবারকে সহায়তা প্রদান,শিক্ষা,মাদক,বাল্যবিয়ে,স্যানিটেশন সম্পর্কে ১২টি জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা সমাপ্ত করেছে।সংগঠনটি পরিচালিত অন্যান্য কার্যক্রম- আলোর প্রদীপ মজার স্কুল পরিচালনা, দরিদ্র মানুষকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, ফটোগ্রাফী, কবিতা,চিত্রাঙ্কন,কারুশিল্প বিষয়ে সৃজনশীল মেধা অন্বেষণ কার্যক্রম পরিচালনা, অনলাইন মুখপত্র ‘আলোর দূত’ প্রকাশনা, প্রাকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা প্রদান, সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা, গুণীজনদের ‘আলোর প্রদীপ সম্মাননা’ প্রদান, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে প্রচারনা ও মাদক বিরোধী ক্যাম্পেইন।সংগঠনটির বর্তমান চেয়ারম্যান এম এম মেহেরুল জানান বগুড়া জেলার সোনাতলা উপজেলাটি নানা কারনেই উল্লেখযোগ্য হলেও যমুনা তীরবর্তী এই অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র সীমার নীচে বাস করে।সুতরাং তাদের যেখানে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর অবস্থা সেখানে ছেলে মেয়েদের পড়াশুনার খরচ বহন দরিদ্র পরিবারগুলোর উপর এক প্রকার দুরহ বিষয়।আমরা দরিদ্র এসব শিক্ষার্থীদের সহায়তার মাধ্যমে প্রাথমিক স্তর থেকে ঝড়ে পড়া রোধে কাজ করে যাচ্ছি।তাদের পড়াশুনার ও নিয়মিত পুষ্টির অভাব দূরীকরণের নৈতিক দায়িত্ব আলোর প্রদীপ শুধু কাধেই তুলে নেয়নি বরং দীর্ঘ ১০ বছর যাবত নিষ্টার সাথে পালন করে যাচ্ছে।আমরা যাই দরিদ্র জনগোষ্টির উন্নয়ন।তারাও যেন মূল সমাজের স্রোতে চলতে পারে মিশতে পারে।আর এই শিক্ষা সহায়তার খরচ বহনের জন্য সংগঠনের সদস্যরা মাসিক ১০ টাকা সংগঠনে দান করছে।সদস্যদের দান অনুদানেই আমরা আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি।সংগঠনের সার্বিক উন্নয়নে প্রত্যেক সদস্যই বেশ আন্তরিক বর্তমানে আমরা সোনাতলা ও রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় কাজ করছি।সকলের সহযোগিতা পেলে আমরা আমাদের কার্যক্রম সারাদেশে ছড়িয়ে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই এই যে, ইচ্ছা শক্তি থাকলে মাত্র ১০ টাকা দিয়েও অনেক কিছু করা সম্ভব।
ব্যতিক্রমধর্মী

ভাগ